ডিসিসিআই সেমিনারে বক্তারা
এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জরুরি মেধাস্বত্ব ইকোসিস্টেম

ছবি: আগামীর সময়
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হলে শিল্প খাতে মেধাস্বত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জে পড়বে বাংলাদেশ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (আইপিআর) ইকোসিস্টেমের বিকল্প নেই।
আজ সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত সেমিনারে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ‘এলডিসি পরবর্তী যুগে শিল্পখাতের রূপান্তর: প্রধান শিল্পগুলোর মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বিষয়াবলির কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটির সম্মেলন কক্ষে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন শিক্ষক ও গবেষক আতাউল করিম।
বক্তব্য দেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর এবং ডিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট তাসকিন আহমেদ। প্যানেল আলোচক ছিলেন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক বিভাগের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, কপিরাইট রেজিস্ট্রার এস এম আরশাদ ইমাম, এসএসজিপি প্রকল্পের উপদেষ্টা আব্দুল বাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুরেজা এম মুজারেবা, বাংলাদেশ এগ্রিক্যামিকেল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বিজিএমইএ-এর সেক্রেটারি জেনারেল মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক মো. আজিজুর রহমান প্রমুখ।
সেমিনারে বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের ওষুধ ও তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্য সম্ভাবনাময় খাতকে আগামী দিনে শুধু উৎপাদনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। দরকার হবে ইনোভেশন, ব্রান্ডিং, টেকনোলজি ট্রান্সফার এবং ভ্যালু এডিশনের দিকে যেতে হবে। এজন্য আইপিআরের কার্যকর সুরক্ষা অপরিহার্য। বর্তমানে আমাদের আইনি কাঠামোর দীর্ঘসূত্রতা, শিল্প সমন্বয়ের ঘাটতি, এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আইপিআর বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
সেমিনারে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো— বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে একটি আধুনিক ও কার্যকর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অফিস গঠন করতে হবে। এ ছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিশেষায়িত আইপিআর ট্রাইব্যুনালে আইপিআর ব্রাঞ্চ গঠন এবং কাস্টমস পুলিশের জন্য বিশেষ আইপিআর প্রশিক্ষণ চালু করা যেতে পারে।
আরও বলা হয়েছে, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক বিভাগে রেজিস্ট্রেশনের যে পরীক্ষা হয় তা ডিজিটাল করতে হবে। এ ছাড়া ওষুধ শিল্পে বায়োটেকনোলজির মতো বিশেষ খাতের জন্য বিশেষজ্ঞ পরীক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস (টিওটি) গঠন করতে হবে। সেই সঙ্গে শিল্প ও গবেষণার মধ্যে সংযোগ তৈরির জন্য একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে আইপিআর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি বিবেচনায় নিয়ে এটিকে ব্যবহারের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সেমিনারে। এ ছাড়া ডিজিটাল পাইরেসি মোকাবিলায় কপিরাইট আইন ও সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি কার্যকর নোটিস এবং টেকডাউন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে।



