তাঁতশিল্প উন্নয়ন
১৩০ কোটির প্রকল্প ডিসেম্বরে শেষ করার বাধ্যবাধকতা
- চলতি মাসে সম্পন্ন হচ্ছে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ
- কারওয়ান বাজার ও কুমারখালীর মার্কেট প্রমোশন সেন্টারও উদ্বোধনের প্রস্তুতি

সংগৃহীত ছবি
দেশের তাঁতশিল্পের উন্নয়ন, পণ্যের মান বৃদ্ধি ও তাঁতিদের দক্ষতা বাড়াতে ১৩০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নেওয়া একটি প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার কাহালু ও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলতি অক্টোবর মাসে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুমারখালী ও রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুটি মার্কেট প্রমোশন সেন্টারও এ মাসে উদ্বোধন করা হবে। তবে কয়েকটি স্থাপনার নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ এখনো বাকি।
‘বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতায় পাঁচটি বেসিক সেন্টারে পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট এবং দুটি মার্কেট প্রমোশন সেন্টার স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
সভা সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, টাঙ্গাইল সদর ও সিরাজগঞ্জ সদরের তিনটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এরই মধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। বাকি দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ চলতি মাসে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া জামালপুরের মেলান্দহে ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট এবং কুমারখালী ও কারওয়ান বাজারে মার্কেট প্রমোশন সেন্টার স্থাপনের কাজও প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হয়েছে। দুটি মার্কেট প্রমোশন সেন্টার চলতি মাসে উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির অনুকূলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং বরাদ্দ করা অর্থের মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জীভূত আর্থিক ব্যয় হয়েছে ১২৪ কোটি ২৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।
প্রকল্প পরিচালক সুকুমার চন্দ্র সাহা সভায় জানিয়েছেন, আরডিপিপির (সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব) সংস্থান অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোয় আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ কাজ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। তবে কুষ্টিয়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কিছু কাজ এখনো শেষ হয়নি। কেন্দ্রটির রঙ করা, স্যানিটারি ফিটিংস, রান্নাঘর, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গাইডওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। ডিপ টিউবওয়েল, ভূগর্ভস্থ জলাধার, নালা, প্রধান ফটক, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ক্যাম্পাসের আলোকসজ্জা ও বহির্বিদ্যুতায়নের কাজও বাকি রয়েছে। এসব কাজ দ্রুত শেষ করতে গত ১০ আগস্ট কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কারওয়ান বাজার মার্কেট প্রমোশন সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ করতে কয়েকটি অনুমোদিত খাতের ব্যয় সমন্বয় প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অনুমোদন পাওয়া গেলে ভবনের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে বলে সভায় জানানো হয়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, জামালপুর ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউটের কাজ শেষ করতে গত ২৭ জুলাই সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সীমানাপ্রাচীর ও ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে। টাঙ্গাইল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কিছু অসংগতি দূর করার কাজও চলছে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর জন্য আসবাব, প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজের বড় অংশ শেষ হয়েছে।
সভায় অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. তারিকুল ইসলাম খান অনুমোদিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যয় সমন্বয় করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব দ্রুত অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেন। অন্যদিকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মহাপরিচালক রোকেয়া খাতুন প্রকল্পের মাসভিত্তিক অগ্রগতি প্রতিবেদন ইপিএমআইএস সফটওয়্যারে হালনাগাদ করার তাগিদ দেন।
সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনা অনুসারে প্রকল্পের সব কার্যক্রম আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে।



