নবম পে স্কেলের বাইরে যারা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কয়েক শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিক নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় আসছেন না। নতুন বেতন স্কেলের আদেশে এসব শ্রেণির কর্মচারী, শ্রমিক ও অন্যান্যভাবে নিয়োজিত ব্যক্তিদের স্পষ্টভাবে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। তবে তাদের জন্য পরে নেওয়া হবে পৃথক ব্যবস্থা।
গতকাল শনিবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে জারি করা হয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি।
এতে বলা হয়েছে, নতুন এই বেতন স্কেল মূলত প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত নিয়মিত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কয়েকটি শ্রেণিকে এর আওতার বাইরে রাখায়, এসব কর্মচারী ও শ্রমিক নবম পে স্কেলের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন না।
আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নতুন বেতন স্কেলের আওতায় থাকবেন না। একইভাবে, প্রতিরক্ষা প্রাক্কলন থেকে বেতন পাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের বাইরে রেখে মূল প্রতিরক্ষা সার্ভিসে নিয়োজিত কর্মচারীরাও এই স্কেলের বাইরে থাকবেন। পুলিশ বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নিয়োজিত কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে একই বিধান।
এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞায়িত শ্রমিক, শিক্ষানবিশ বা প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করা কর্মীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধা পাবেন না। ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’-এর আওতায় নিয়োজিত শ্রমিকদেরও রাখা হয়েছে এই বেতন কাঠামোর বাইরে।
চুক্তিভিত্তিক ও খণ্ডকালীন কর্মীরাও নতুন পে স্কেলের আওতাভুক্ত নন। অর্থাৎ নিয়মিত পদে নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে, এসব অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, প্রশিক্ষণার্থী ও বিশেষ শ্রেণির কর্মীদের ক্ষেত্রে তা সরাসরি প্রযোজ্য হবে না।
তবে এসব শ্রেণির কর্মচারী ও শ্রমিকের বিষয়ে দরজা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়নি। তাদের জন্য পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফলে নবম পে স্কেল কার্যকরের পর তাদের বেতন-ভাতা বা পারিশ্রমিকের কাঠামো কী হবে, তা নির্ধারণ করা হতে পারে পৃথক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।
এ কারণে নতুন পে স্কেলের আওতা নিয়ে আলোচনা হলেও নিয়মিত সরকারি কর্মচারীদের বাইরে থাকা এসব শ্রেণির জন্য আলাদা সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে আউটসোর্সিং, চুক্তিভিত্তিক ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থার প্রভাব নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।



