আবেদন করেও সনদ নবায়ন হয়নি, আভিভা ইক্যুইটির লেনদেন বন্ধ

সংগৃহীত ছবি
নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রতিষ্ঠানটির স্টক-ব্রোকার ও স্টক-ডিলার নিবন্ধন সনদের মেয়াদ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শেষ হয়। ফলে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট (ডিপি) কার্যক্রমও স্থগিত করেছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।
সূত্র জানায়, আভিভা ইক্যুইটি নিবন্ধন সনদ নবায়নের জন্য গত ২ জুলাই ডিএসইর কাছে আবেদন করেছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠানটির সনদ নবায়নের সুপারিশ করেনি ডিএসই। ফলে আভিভা ইক্যুইটির নিজস্ব লেনদেনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পরিচালিত বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব থেকেও শেয়ার কেনাবেচা বন্ধ রয়েছে। এতে বুধবার প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে লেনদেন করা বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনাবেচা করতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ নবায়নের সুযোগ না দিয়ে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়ায় মঙ্গলবার সম্পন্ন হওয়া লেনদেন এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব বাজারেও পড়েছে।
ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০’-এর বিধি ৩ অনুযায়ী নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো স্টক-ব্রোকার বা স্টক-ডিলার সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় বা এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। এ বিধানের আওতায় আভিভা ইক্যুইটির কার্যক্রম ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে স্থগিত করা হয়েছে।
তবে লেনদেন বন্ধ করা হলেও বুধবার দিন শেষে ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি।
এদিকে, সিডিবিএলের চিঠিতে বলা হয়, ডিএসইর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিবিএলের উপ-আইনের ৫.৭.১(এম) ধারা অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ডিপি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ডিএসই পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অথবা বিএসইসি নতুন কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
আভিভা ইক্যুইটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নেওয়া ঋণ, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তদন্ত করে বিএসইসি। ব্রোকারেজ হাউজটির বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজি, সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ) ঘাটতি, নেগেটিভ অ্যাকাউন্টে ঋণ দেওয়া, ডিলার অ্যাকাউন্ট ও নেগেটিভ অ্যাকাউন্টে শেয়ার ডাম্পিং এবং অতিরিক্ত দামে প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের আগের নাম ছিল রিলায়েন্স ব্রোকারেজ সার্ভিস। প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক খাতের আলোচিত এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। আভিভা ফাইন্যান্সের আগের নাম ছিল রিলায়েন্স ফাইন্যান্স। ২০২০ সালে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের নাম পরিবর্তন করে আভিভা ফাইন্যান্স করা হয়। একই সময়ে রিলায়েন্স ব্রোকারেজের নাম পরিবর্তন করে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট রাখা হয়।
আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম। তবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে প্রতিষ্ঠানটি থেকে সরিয়ে দেয়। এর আগে অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত পি কে হালদার ২০০৯ সালে আভিভা ফাইন্যান্সের তৎকালীন নাম রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




