পরামর্শ নিতেই খরচ ৬৮ কোটি
- তৈরি হচ্ছে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি

সংগৃহীত ছবি
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে তৈরি হচ্ছে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি। সেই সঙ্গে একাধিক চ্যানেলের মাধ্যমে অভিযোগ ট্র্যাক করার জন্য কার্যকর এবং অ্যাক্সেসযোগ্য সিস্টেম ও উন্নত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হাতে নেওয়া হচ্ছে ‘সোশ্যাল প্রোটেকশন ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন’ (এসপিডিটিসি) প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১১৯ কোটি ৭ লাখ ৪৪ হাজার এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ৯৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে পরামর্শক খাতেই খরচ ধরা হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা। এ খাতে এত বেশি ব্যয় ধরার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রকল্পটি নিয়ে অনুষ্ঠেয় বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভায় এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। সভায় সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মাহমুদুল হোসাইন।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, এসপিইসি সভায় কনসালট্যান্সি খাতে প্রস্তাবিত প্রায় ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং দেশীয় নাকি বৈদেশিক পরামর্শক নিয়োগ করা হবে— সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণসহ সেমিনার বা কনফারেন্স খাতে ধরা প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের সর্বশেষ পরিপত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। পাশাপাশি পিইসি সভার আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ ভাতা বাদ না দেওয়ার কারণ এবং প্রশ্ন তোলা হবে অফিস ভাড়ার বিষয়েও।
এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের পদ, জনবল-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের অনিয়মিত শ্রমিকের বিধান রাখার বিষয়েও চাওয়া হবে ব্যাখ্যা।
সূত্র জানায়, প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে অর্থ বিভাগ একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো উন্নত লক্ষ্যমাত্রা, সম্প্রসারিত কভারেজ, লাইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় এবং জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এ ছাড়া রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড, স্বয়ংক্রিয় যাচাইকরণ এবং ম্যানুয়াল ত্রুটি কমানোর মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচন ও পরিষেবা সরবরাহে স্বচ্ছতা বাড়ানো হবে। ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে ডেটা বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ডেটা-চালিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করা হবে। একক রেজিস্ট্রি, জিটুপে পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এবং লাইন মন্ত্রণালয় সিস্টেমসহ এমআইএস অবকাঠামো আপগ্রেড, রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকসই করা হবে। পাশাপাশি কাঠামোগত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে সরকারি কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার ভবিষ্যৎ পথের জন্য ডকুমেন্টেশন ও প্রকাশনা তৈরি করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর দ্বিতীয় অধ্যায় ‘বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন’-এর অন্তর্গত। ‘দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা’ অনুচ্ছেদ-সংশ্লিষ্ট। প্রকল্পটির জন্য দেওয়া হয়েছে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) প্রত্যয়নপত্র।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৬৯ কোটি ৬৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। কিন্তু পুনর্গঠিত টিএপিপিতে (টেকনিক্যাল প্রজেক্ট প্রপোজাল) ৪৬ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার বৃদ্ধি করে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২১৬ েকাটি ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এই বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে আজকের সভায় প্রশ্ন তোলা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রির বিকাশ ও সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হবে। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে।



