বাবা ছিলেন আমার পথপ্রদর্শক

মো. আক্তার বিশ্বাস
তিনি শুধু আমার জন্মদাতা বাবাই নন, শিক্ষাগুরু ও পথপ্রদর্শকও। আমি ৩৪ বছর ধরে রিয়েল এস্টেট খাতের সঙ্গে যুক্ত। আর আমার বাবা বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতের যাত্রার শুরুর দিক থেকেই এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও ব্যবসায়িক দর্শনকে কাজে লাগিয়েই আমরা পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তার চিন্তাধারা থেকে আমরা বাস্তব জীবনে সুফল পেয়েছি। বাংলাদেশে বিকেন্দ্রীকরণের ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার বাবা ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
তিনি নিজ জেলা শহরে একটি প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি আরও কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেন, যেগুলো বিভিন্ন নামে পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ লতিফ গ্রুপের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে লতিফ রিয়েল এস্টেট, লতিফ ফাউন্ডেশন, মুনসুরাবাদী গ্রোথ এবং পাবনা ডেভেলপারস লিমিটেড। পাবনা ডেভেলপারস লিমিটেড এরই মধ্যে পাবনায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে এবং আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো তার স্বপ্ন আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়ন হতো। এখন তিনি নেই, কিন্তু তার স্বপ্ন ও আদর্শ ধরে রেখে আমরা এগিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
আমার জীবনে বাবার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং অন্যের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে দূরে থাকা। মানুষের সঙ্গে যে অঙ্গীকার করা হবে, তা যথাসম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকাই ছিল তার অন্যতম প্রধান শিক্ষা। তিনি সবসময় চাইতেন, আমরা যেন সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করি এবং ব্যবসা করি।
ব্যবসায়িক জীবনে বাবার সময়ের যথাযথ ব্যবহারের মূল্যবোধ আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি সময়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। তার কাছে সময়ের মূল্যায়ন বলতে বোঝাত যথাসময়ে যথাযথ কাজটি করা। আমরা দেখেছি, তিনি নামাজের সময় নামাজ আদায় করতেন, খাওয়ার সময় খেতেন, বিশ্রামের সময় বিশ্রাম নিতেন এবং কাজের সময় কাজে মনোযোগ দিতেন। পাশাপাশি চিন্তাভাবনার জন্যও আলাদা সময় রাখতেন। সারা দিনে কী কাজ করলেন এবং পরদিন কী করবেন, তা নিয়েও পরিকল্পনা করতেন। তার জীবন থেকে আমি শিখেছি, দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করা এবং সেই সময়ের যথাযথ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অভ্যাস মানুষকে সুশৃঙ্খল করে এবং সফল হতে সহায়তা করে।
বাবাকে ঘিরে স্মৃতি অফুরন্ত। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি আমার পথপ্রদর্শক ছিলেন। আজ যে কাজগুলো করছি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার পরামর্শের কথা মনে পড়ে। মনে হয়, তিনি বেঁচে থাকলে আরও সুন্দরভাবে এগিয়ে যেতে পারতাম। তাকে হারানোর বেদনা একজন পথপ্রদর্শককে হারানোর বেদনাও। বাবার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমাদের স্বপ্ন আরও বিস্তৃত, যা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। মূল অগ্রাধিকার তিনটি— প্রতিশ্রুতি রক্ষা, গুণগত মান বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের আপস না করা। এই নীতিতে অটল থাকার সুফল আমরা পেয়েছি। আমরা চাই, বাবার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান তার আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যাক। তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
লেখক: ব্যবস্থাপনা পরিচালক আক্তার প্রপার্টিজ লিমিটেড



