মাশরুম চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছেন প্রবাসফেরত আশরাফ

ছবি: আগামীর সময়
মাশরুম চাষ করে এলাকায় সাড়া জাগিয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ উদ্দিন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মাশরুম চাষ করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের প্রবাসজীবনের নানা কষ্ট ও সংগ্রামের পর এখন কৃষিতেই খুঁজে পেয়েছেন নতুন সম্ভাবনার পথ। প্রবাসজীবনে উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ পরিবার ও সন্তানের চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায় তার। সেই কঠিন সময় পেছনে ফেলে এখন মাশরুম চাষ ঘিরেই নতুন স্বপ্ন বুনছেন আশরাফ উদ্দিন। নিজের পরিশ্রম আর আগ্রহ দিয়ে তিনি শুধু সফলতার পথেই হাঁটছেন না, এলাকায়ও তৈরি করেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ইউটিউবে মাশরুম চাষের ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এই চাষ শুরু করেন আশরাফ উদ্দিন। পরে স্থানীয় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের’ আওতায় সাভারের মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাশরুম চাষে মনোযোগ দেন আশরাফ।
মাশরুম চাষের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় ছোট একটি গরুর খামারও গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানে বর্তমানে পাঁচটি গরু পালন করা হচ্ছে। কৃষিকাজের এসব উদ্যোগে তাকে সহযোগিতা করছে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া যমজ দুই ছেলে মোহাম্মদ হাসান ও মোহাম্মদ হোসাইন। বাবার সঙ্গে তারাও সময় পেলেই খামার ও মাশরুমের পরিচর্যায় হাত লাগায়।
মাশরুমের বাজার নিয়ে কিছুটা হতাশাও আছে আশরাফ উদ্দিনের। বলেছেন, ‘বিদেশে মাশরুমের চাহিদা বেশি হলেও দেশে এখনও সেভাবে বাজার তৈরি হয়নি। বিভিন্ন দোকান, ফুটপাত ও পাকোড়ার দোকানে গিয়ে নিজেই মাশরুম বিক্রি করছেন। ঢাকায় নিয়েও বিক্রি করেন, আবার শুকিয়েও বাজারজাত করছেন। তার আশা, কৃষির মাধ্যমে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে। তার ভাষ্য, মাশরুম নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন।‘প্রবাসজীবনের কষ্ট ভুলতে চাই এই চাষের মাধ্যমেই’।
কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার কারণ জানতে চাইলে আশরাফ উদ্দিন বলেছেন, ‘প্রবাসে যাওয়ার আগেও তিনি কৃষিকাজ করতেন। প্রবাসজীবনে উপার্জনের বড় একটি অংশ পারিবারিক নানা জটিলতায় হারিয়ে ফেলেন। যমজ দুই সন্তানের একজন অসুস্থ হওয়ায় দেশে ও ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে খরচ হয়েছে অনেক টাকা। তাই উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি।’
১৯৯৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে প্রবাসী ছিলেন আশরাফ উদ্দিন। ২০২২ সালে দেশে ফিরে প্রথমে ড্রাগন ও লেবু চাষ করেন। এতে তেমন সাফল্য না পেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে কলা চাষ শুরু করেন। কলা চাষের পাশাপাশি গরু ও ড্রাগন নিয়েই এখন তার সময় কাটে।
আশরাফ উদ্দিন জানান, নিজেকে নতুন করে দাঁড় করাতে কৃষির ওপরই ভরসা করেছি। ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষের বিষয়ে আগ্রহী হই। পরে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করি। মাত্র ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তিন মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছি।
মাশরুম চাষে আশরাফ উদ্দিনকে পরামর্শ দিয়েছেন ভালুকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদ্দাম কাজী। বলেছেন, ‘মাশরুম চাষে জমি লাগে না, কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয় না। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি খাদ্য। এখনও অনেকেই মাশরুম সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন না,অনেকে একে ব্যাঙের ছাতা মনে করেন। তাই গ্রামাঞ্চলে আরও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন।’
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেছেন, ‘মাশরুম বাজারজাতকরণেও সহযোগিতা করা হবে। সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে মাশরুম খাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করা হবে। মাশরুম খাওয়ার আগ্রহ বাড়লে এটির বিক্রিও বাড়বে।’




