অরবিন্দর পেনশনের টাকায় হাজারো বাড়িতে গাছ

কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেন শিক্ষক অরবিন্দ বিশ্বাস- আগামীর সময়
প্রায় ১১ বছর আগে ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই খুলনার তেরখাদা উপজেলার আদর্শ শিক্ষা নিকেতন প্রাঙ্গণে (বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়) একটি ফলদ গাছ রোপণ করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরবিন্দ বিশ্বাস। একই দিন ১৪ মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে বিতরণ করেন গাছের চারা; যার বেশিরভাগই এখন দিচ্ছে ফল।
এরপর ১১ বছরে অরবিন্দ বিশ্বাস ২৮টি সরকারি বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় রোপণ করেছেন ফলদ ও বনজ গাছ। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারী এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নিয়মিত উপহার হিসেবে তুলে দিচ্ছেন গাছের চারা। তার এ কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণ্ডিতে। নিজ গ্রাম তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদহে গাছের চারা বিতরণ করেছেন অন্তত ৩০০ পরিবারের মধ্যে। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়েও রোপণ করেছেন গাছ।
অরবিন্দ বিশ্বাস (৭৮) তেরখাদা উপজেলার মাটিয়ারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর নেন ২০০৭ সালে । স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এ কাজে উৎসাহ দেন তাকে। অরবিন্দ বিশ্বাস আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, শৈশব থেকেই গাছপালার প্রতি তার গভীর ভালোবাসা। বাড়ির ছোট্ট আঙিনায় তিনি লাগিয়েছেন হরেক প্রজাতির গাছ। ২০১৫ সালে কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পান ৬০০ টাকা। সিদ্ধান্ত নেন নিজের কাজে এ টাকা খরচ করবেন না। সমাজের জন্য ভিন্ন কিছু করবেন। সেই চিন্তা থেকেই চারা রোপণ শুরু করেছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে।
এই শিক্ষক জানালেন, গাছের চারা রোপণ ও বিতরণের এই কার্যক্রমে কেউ কখনো আর্থিক সহযোগিতা করেননি তাকে। প্রতি মাসে পেনশনের টাকা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেন এ কাজে। অনুমতি নিয়ে অন্যের একখণ্ড জমিতে উৎপাদন করেন চারা। কিনেও চারা বিতরণ করেন। এ পর্যন্ত তিনি রোপণ ও বিতরণ করেছেন আড়াই হাজারের বেশি গাছের চারা।
উপজেলার কমারোল গ্রামের বাসিন্দা ডা. হারান চন্দ্র ভক্ত এবং সাচিয়াদহ গ্রামের বাসিন্দা নবজিত বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিয়ে, বউভাত, মুখেভাত ও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলেই অরবিন্দ বিশ্বাস উপহার দেন গাছের চারা। অনুষ্ঠান ছাড়াও মানুষের বাড়িতে গাছের চারা বিতরণ করেন তিনি। অনেক সময় নিজে দাঁড়িয়ে থেকে চারা রোপণ করান, পরিচর্যা সম্পর্কেও ধারণা দেন। তাদের এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে চোখে পড়বে শিক্ষক অরবিন্দ বিশ্বাসের দেওয়া গাছ। অনেকের গাছেই ধরেছে ফল।
তেরখাদা উপজেলার ইন্দুকাটী নেপাল চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনাদী কুমার মজুমদার বললেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরবিন্দ বিশ্বাস তার বিদ্যালয়ে দুবার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেছেন। তার জানামতে, এমন অসংখ্য বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেধাবী এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার হিসেবে চারা তুলে দিচ্ছেন। পরিবেশ সুরক্ষায় তার এ অবদান সত্যিই উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।




