সন্তান না হওয়ায় স্ত্রীকে ডিভোর্স, পা ধরে কান্না করলেও মন গলেনি স্বামীর

গ্রাম্য সালিশে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের পরিবারের লোকজন
সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ায় স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছেন স্বামী। বিচ্ছেদ ঠেকাতে স্বামীর পা ধরে কান্নাকাটি করেও শেষ পর্যন্ত সংসার রক্ষা করতে পারেননি স্ত্রী ইতি আক্তার (২৫)।
গ্রাম্য সালিশে সবার সামনে স্বামীর কাছে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানালেও মন গলেনি তার। শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটেছে।
গতকাল শনিবার রাতে বরিশালের হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইতির ভাই জুলহাস সরদার।
তিনি জানান, গ্রাম্য সালিশে স্বামী রনি খানকে বিচ্ছেদ না দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন তার বোন। একপর্যায়ে স্বামীর পা ধরে বিলাপ করে কান্নাকাটি করেন ইতি। কিন্তু তার কোনো আকুতিতেই মন গলেনি রনির। সন্তান না হওয়ার কারণ দেখিয়ে তিনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজগর আলী উপস্থিত ছিলেন। তারাও রনি খানকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়েও সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেননি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামের রিকিম আলী সরদারের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে সাত বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় পাশের মেহেন্দীগঞ্জের বাবনেরচর গ্রামের কাজল খানের ছেলে রনি খানের। রনি পেশায় পোশাকশ্রমিক। বর্তমানে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নরসিংদীর মাধবদী থানার চৌদ্দ পাইকা এলাকায় বসবাস করছেন।
স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে রনি খান জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে দীর্ঘ সাত বছর দেশের বিভিন্ন স্থানের চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়েছেন তারা। এতে তিনি জানতে পেরেছেন, তার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবেন না। এ কারণে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে আর সংসার করতে চান না।
এদিকে স্বামীর এমন সিদ্ধান্তে সাত বছরের সংসার ভেঙে গেছে ইতি আক্তারের। বিচ্ছেদ ঠেকাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেও স্বামীর মন পরিবর্তন করতে পারেননি তিনি।



