সাঘাটা
৮ ফুট চওড়া ব্রিজে ছয় গ্রামের দুর্ভোগ, দায়িত্ব নিচ্ছে না এলজিইডি

ছবি: আগামীর সময়
মাত্র ৬ থেকে ৮ ফুট চওড়া একটি ব্রিজ। একসঙ্গে দুটি ভ্যান পারাপারের সুযোগ নেই। একটি ভ্যানকে অন্যটির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে যানজট। অথচ ছয়টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা এই ব্রিজ। দীর্ঘদিনের এমন দুর্ভোগের মধ্যেও ব্রিজটির নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোন দপ্তরের, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অস্পষ্টতা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, ব্রিজটি তাদের আওতাধীন নয়।
গাইবান্ধার সাঘাটার ভরতখালী ইউনিয়নের কাকড়া গাড়ি খালের ওপর নির্মিত কাকড়া গাড়ি ব্রিজের চিত্র এটি। সাকোয়া, চিথুলিয়া, গটিয়া, মান্দুরা, সিংরিয়া ও উল্যাবাজারসহ ছয়টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম ব্রিজটি। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার যানবাহন এ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে। মাত্র ৮ ফুট চওড়া হওয়ায় বিপরীত দিক থেকে দুটি ভ্যান একসঙ্গে পারাপার হতে পারে না। ফলে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে নির্মিত ব্রিজটি একসময় শুধু পথচারীদের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বিকল্প পথ না থাকায় বর্তমানে এর ওপর দিয়ে হালকা ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করছে। এমনকি ইট, বালি ও সিমেন্টসহ ভারী মালামাল পরিবহনে কাকড়া গাড়ি ও ছোট ট্রাকও ব্যবহার করছে ব্রিজটি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এর বিভিন্ন অংশ। ভেঙে পড়েছে রেলিংয়ের একাধিক অংশ।
স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
ভ্যানচালক বিশ্বজিত বলেন, ‘দুটি ভ্যান পারাপার হওয়া যায় না। একটি এক পাশে দাঁড়িয়ে রাখতে হয়।’
পথচারী জাহিদুল ইসলাম জানান, ‘প্রতিদিনই যানজট লেগে যায়। আগে শুধু মানুষ চলাচল করলেও এখন প্রতিনিয়ত হালকা ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করে।’
ব্রিজটির নির্মাণ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পর্কে জানতে চাইলে সাঘাটা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. হেলাল জানান, এলজিইডির আওতায় নির্মিত ব্রিজ সাধারণত ১০ ফুটের কম চওড়া হয় না। কাকড়া গাড়ি ব্রিজটি ৬ থেকে ৮ ফুট চওড়া। এটি তাদের দপ্তরের আওতাধীন নয়।
এদিকে ব্রিজের নির্মাণসংক্রান্ত ফলক না থাকায় এটি আসলে কোন দপ্তরের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ব্রিজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ কোনো কর্তৃপক্ষ নেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মণ্ডল জানিয়েছেন, ব্রিজটি সরু হওয়ায় ছয়টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এটি দ্রুত প্রশস্ত করা প্রয়োজন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ অবস্থায় ব্রিজটি প্রশস্ত ও নিরাপদ করার পাশাপাশি এর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




