এনটিআরসিএ
ঝুলে থাকা নিয়োগ সমস্যার সমাধান চান ১-১২তম নিবন্ধনধারীরা

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগ সমস্যার সমাধান ও আদালতে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রথম থেকে দ্বাদশ নিবন্ধনধারী নিয়োগপ্রত্যাশীরা। এসব দাবি জানাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও চেয়েছেন তারা।
আজ রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি ও শিক্ষক, কর্মচারী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. মনিরুল হক।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিয়ে আসছে। শুরুতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও পরিচালনা পর্ষদের হাতে। প্রথম থেকে অষ্টম ব্যাচের সনদের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। নবম থেকে একাদশ ব্যাচের সনদের নির্দিষ্ট মেয়াদ ছিল না। আর দ্বাদশ ব্যাচের সনদের মেয়াদ ছিল তিন বছর। ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে সনদের মেয়াদসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন করে তা আজীবন কার্যকর করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, ২০১৬ সালে প্রথম গণবিজ্ঞপ্তিতে প্রায় ৪০ হাজার ইনডেক্সধারী শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন করে চাকরি পান ১০ থেকে ১২ হাজার প্রার্থী। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন ১৩তম ও ১৪তম ব্যাচের। অন্যদিকে, প্রথম থেকে দ্বাদশ ব্যাচের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর না থাকায় তারা মেধাতালিকায় পিছিয়ে পড়েন। পরের গণবিজ্ঞপ্তিতে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ না দেওয়ায় অনেকে নিয়োগবঞ্চিত হন।
তারা উল্লেখ করেন, একটি মামলার (৩৯০০/২০১৯) রায়ে ২০১৮ সালের ১২ জুনের আগে নিবন্ধন সনদ পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিল করার সুযোগের কথা বলা হয়। এরপর কয়েকজন প্রার্থী আদালতের দ্বারস্থ হন। তাদের করা মামলাটি (৯৯৭৬/২০২০) দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। মনিরুল হকের দাবি, মামলাটিতে এ পর্যন্ত ৭৪টি শুনানি হয়েছে। এতে অনেক প্রার্থী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থেকেও তারা কোনো সমাধান পাচ্ছেন না।
সংগঠনটির অভিযোগ, তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সব ব্যাচের প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর না থাকা এবং ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের নিয়োগের কারণে প্রথম থেকে দ্বাদশ ব্যাচের প্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হন আবারও। ১৩তম ব্যাচের ২ হাজার ২০৭ জন প্রার্থী আদালতের মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন উল্লেখ করে তারাও ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
মনিরুল হক জানান, বিগত সরকারের আমলে তারা শাহবাগে টানা ২০৩ দিন আন্দোলন করেছেন। ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর শাহবাগে মানববন্ধন করেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ নভেম্বর এনটিআরসিএ কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন। এতে কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি পরিপত্র জারি হলেও নিয়োগ সমস্যার সমাধান হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতারা দাবি করেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে তারা নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। তখন বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কয়েক হাজার শিক্ষক কাজ করলেও এখন পর্যন্ত নিয়োগের বিষয়ে কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতারা। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সমাবেশ এবং ৮ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনাসভায়ও বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জাকির হোসেন।




