পুশইন চেষ্টা চলছেই
কুষ্টিয়ার শূন্যরেখায় ১২ জনের তিন দিনের অপেক্ষা

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন স্থান দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশইনের চেষ্টা চলছেই। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে এ চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। এরপর পুশইনের জন্য আনা মানুষদের ফিরিয়ে নিচ্ছে বিএসএফ। কিন্তু কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে আটকে রয়েছেন নারী-শিশুসহ ১২ জন। যাদের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু নিজেদের সীমান্তের ভেতর ফেরত নেয়নি বিএসএফ। ফলে খোলা আকাশের নিচে রোদ-ঝড়-জল মাথায় নিয়ে রীতিমতো মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ওই নাগরিকরা।
গতকাল রবিবার ভোরে কুড়িগ্রামের রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৬০/১-এস দিয়ে চলে এ চেষ্টা। যাদের মধ্যে ছিলেন এক নারী, দুই শিশু ও তিন পুরুষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সীমান্তের কাঁটাতারসংলগ্ন শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন তারা।
এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করেছিল বিজিবি। কিন্তু সেখান থেকে আসেনি কোনো সিদ্ধান্ত। স্থানীয় ইউপি সদস্য সোনা মিয়া জানালেন, গয়টাপাড়া সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে আছেন গ্রামবাসী।
কাছাকাছি সময়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ। গতকাল ভোর ৪টার দিকে দর্শনা-জয়নগর সীমান্তের ৭৫ নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানালেন, পুশইনের বিষয়টি বুঝতে পেরে সতর্ক অবস্থান নেন বিজিবির সদস্যরা। স্থানীয় গ্রামবাসীও যোগ দেন তাদের সঙ্গে। পরিস্থিতি বুঝে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। পরে ওই ১১ জনকে শূন্যরেখা এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় তারা।
শূন্যরেখায় পুড়ছে মানবিকতা: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে শূন্যরেখায় মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন নারী ও শিশুসহ ১২ জন মানুষ। ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার পর এখন খোলা আকাশের নিচে আটকা পড়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানালেন, গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ওই ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। সে চেষ্টা ব্যর্থ হলে তাদের রাখা হয় সীমান্তবর্তী শূন্যরেখায়। এরপর থেকে রোদ, বৃষ্টি ও খাদ্য-পানির সংকটে চরম মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাদের মধ্যে রয়েছে চারজন নারী ও চারটি শিশু। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স প্রায় দেড় বছর।
প্রচণ্ড রোদ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের কান্না ও আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা, বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন বাংলাদেশ অংশের স্থানীয়রাও। কাছের মাথাভাঙ্গা নদী থেকে বালতিতে করে পানি এনে তাদের পৌঁছে দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। খাবার দিয়েও সহায়তা করার চেষ্টা করছেন।
সবশেষ গত শনিবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিষয়টির তাৎক্ষণিক সমাধান হয়নি। বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষে বলা হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানায়, আটকে পড়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করবে তারা। তবে এ প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


