রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, বারভিডার কর্মসূচি

ব্যবহৃত ইভি আমদানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। ছবি: আগামীর সময়
রিকন্ডিশন্ড বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। এর অংশ হিসেবে নিজেদের শোরুমে গাড়ি বিক্রি বন্ধ রেখেছেন তারা। পাশাপাশি বন্দর থেকে গাড়ি খালাস, কাস্টমসে রাজস্ব পরিশোধ এবং বিআরটিএতে গাড়ি নিবন্ধন কার্যক্রমও স্থগিত রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
আজ বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সদস্যরা। দেশজুড়ে একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি আমদানির পাশাপাশি ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
বারভিডার নেতারা জানিয়েছেন, নতুন ইভির তুলনায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম তুলনামূলক কম। ফলে এ ধরনের গাড়ি আমদানির সুযোগ বন্ধ হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ইভি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হবে। সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে বয়স, ব্যাটারির সক্ষমতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মান নির্ধারণ করে শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বারভিডার সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান কর্মসূচিতে বলেছেন, ‘এক দেশে দুই আইন হতে পারে না। আপনি একজনকে সুবিধা দেবেন, আরেকজনকে অসুবিধায় ফেলবেন, সেটা হতে পারে না।’ তিনি এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে বারভিডার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট গিয়াসউদ্দিন, সাবেক ইসি সদস্য মোহাম্মদ জসিম, গাড়ি ব্যবসায়ী নজরুলসহ সংগঠনটির চট্টগ্রামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বারভিডা আগে জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়সী ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ চায়। পাশাপাশি গাড়ির ব্যাটারির স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যাটারির স্বাস্থ্য সনদ এবং আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে গাড়ি পরীক্ষা ও সনদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বন্যা, আগুন বা গুরুতর দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ রাখার কথাও বলেছে সংগঠনটি।
বারভিডার নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে ধাপে ধাপে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।




