৮০টি বাড়িতে লুটপাট
চর দখল নিয়ে সংঘর্ষে নারী নিহত, ৭ দিন ধরে গ্রামছাড়া শতাধিক পরিবার

বাটেরারচর গ্রামে নারীদের মানববন্ধন—ছবি : আগামীর সময়
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরারচর এলাকায় চর দখলকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি।
এখনও বাড়ি ছেড়ে দূরে মানবেতর জীবনযাপন করছে হামলার হুমকিতে থাকা নতুন বাটেরারচর গ্রামের শতাধিক পরিবার। এই অবস্থায় অন্তত ৮০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
আজ শনিবার দুপুরে নতুন বাটেরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মানববন্ধন করে গ্রামের শতাধিক পরিবারের নারীরা এসব অভিযোগ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীরা জানান, সংঘর্ষের পর পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও চর বিনোদপুর এলাকার একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ৮০টি ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
তবে বিনোদপুর গ্রামের বাসিন্দারা পাল্টা অভিযোগ করে জানান, তাদের গ্রামেও ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ১৫-২০টি গরু নিয়ে গেছে বাটেরারচরের লোকজন।
মানববন্ধন থেকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক বলেছেন, ‘ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে ভাঙচুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চর দখলকে কেন্দ্র করে তিতাস উপজেলার নতুন বাটেরারচর এবং মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৬ জুলাই বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
এ সময় মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কুহিনুর আক্তার (৩৮) গলায় টেঁটার আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হামলা, ভাঙচুর ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
পরে ২৯ জুলাই রাতে নিহত কুহিনুর আক্তারের স্বামী মো. কাবিল মিয়া বাদী হয়ে মেঘনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।






