সময় শেষ টাকাও শেষ— সেতুর কাজ মাত্র অর্ধেক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একটি সেতু শুধু দুই তীরের দূরত্ব কমায় না, এটি মানুষের স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার সংযোগ ঘটায়। সৃষ্টি করে নতুন সম্ভাবনা। খুলে দেয় উন্নয়নের পথ। সেই পথ খুলতেই ২০২৩ সালের ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শুরু হয় সেতুর। এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছরের মে মাসে। বর্তমানে সময় শেষ, টাকাও শেষ কিন্তু সেতুর কাজ মাত্র অর্ধেক। এটি নির্মিত হচ্ছিল মাদারীপুরের শিবচরে খালের ওপর।
প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ রয়েছে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ। তিন বছর আগে শুরু হওয়া প্রকল্পটির অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় থমকে আছে নির্মাণকাজ। ফলে উমেদপুর, ভদ্রাসন ও কুতুবপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
চান্দেরচর বাজারসংলগ্ন খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। সেতুটি চালু হলে অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হতো। কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলেও আসত গতি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো অসমাপ্ত পড়ে আছে স্বপ্নের এই সেতু।
এলজিইডি ২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৬ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রশস্ত সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৫ সালের মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় কাজ থেমে যায় সেই প্রকল্পের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
বর্তমান বাজারে আসা ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি সেতুর পাশে নির্মিত অস্থায়ী অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে আরও বেড়ে যায় দুর্ভোগ।
‘প্রায় তিন বছর ধরে ভোগান্তিতে আছি। বৃষ্টির দিনে কষ্টের শেষ থাকে না। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে’— ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন ভ্যানচালক মো. সিদ্দিক।
একই সুরে ক্ষোভ ঝাড়লেন উমেদপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলী। বললেন, ‘বৃষ্টি হলে অ্যাপ্রোচ সড়কে কাদা হয়ে যায়। তখন দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় সবাই কষ্টে আছে। এটি দ্রুত নির্মাণ হলে উপকার হবে হাজার হাজার মানুষের।’
‘বৃষ্টি হলে চান্দেরচর বাজারের পানি এখানে জমে যায়। তখন চলাচলে ভোগান্তি বাড়ে। ভ্যান ও ইজিবাইক উল্টে যাত্রীরা আহতও হন’— উল্লেখ করলেন যাত্রী মোতালেব হাওলাদার।
চান্দেরচর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এলাকার অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র এই বাজার। সেতুটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। কিন্তু নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সেতুর রডে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। দ্রুত কাজ আবার শুরু না হলে প্রকল্পের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
সেতুটি নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার দ্রুত সমাধান করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী।
সেতুর কাজ দীর্ঘদিন বন্ধের কথা স্বীকার করলেন শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কে এম রেজাউল করিম। বললেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সেতুর কাজ আটকে আছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হলে দ্রুত নির্মাণকাজ আবার শুরু করা সম্ভব হবে।’
‘বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টাও চলছে’—জানালেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহমেদ।





