তিন দিনে পাঁচ বাল্যবিবাহ বন্ধ, জরিমানা

সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহারের নেতৃত্বে অভিযান
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় তিন দিনের ব্যবধানে পাঁচটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এসব ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি জরিমানা ও অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। এ সময় অভিযানের খবর পেয়ে এক বর কনের বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কুমিরা ইউনিয়নের হাজামপাড়া গ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার রিংকু আইচ, সংগীত শিক্ষক শম্পা ভট্টাচার্য ও দপ্তরি মিনা দে কনের বাড়িতে যান। এর আগে থেকেই সেখানে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশের একটি দল অবস্থান করছিল।
অভিযানের খবর পেয়ে বর পালিয়ে যান। পরে কনের বাবার কাছ থেকে ভবিষ্যতে মেয়েকে বাল্যবিবাহ দেবেন না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়।
একই দিন কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৫ বছর বয়সী আরেক কিশোরীর বিয়ের আয়োজনের খবর পায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। পরে অধিদপ্তরের একটি দল সেখানে গিয়ে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করে। এ সময় অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া একই দিন ঢ্যামসাখোলা গ্রামে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।
এর আগে ৩ নভেম্বর উপজেলার মাছিয়াড়া গ্রামে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে কিশোরীর বাবাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ওই দিন দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের মো. জামির গাজীর ছেলে মো. এনামুল গাজীর সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে ভূরিভোজেরও আয়োজন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা সেখানে অভিযান চালান।
এ সময় খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মী, পুলিশ ও সিএসও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কিশোরীর বাবাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ওই বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে বর ও কনে—উভয় পক্ষের কাছ থেকে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহে জড়িত না হওয়া এবং এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহযোগিতা করার মুচলেকা নেওয়া হয়।
একই দিন এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহের আয়োজন করা একটি বিয়ে বন্ধ করা হয়। ওই বিয়েতে ২০ বছর বয়সী এক কিশোর ও ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাদের বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
সব কটি অভিযানের সার্বিক সমন্বয় করেন সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার।




