মেহেরপুরে ১৭ অ্যান্টি-ট্যাংক ও ৭৩ অ্যান্টি-পার্সন মাইন উদ্ধার

ছবি: আগামীর সময়
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রাম থেকে ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন ও ৭৩টি অ্যান্টি-পার্সন মাইন উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর একটি দল। পরে উদ্ধার করা মাইনগুলো গ্রামের পাশের টকটি নদীর পাড়ে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সোমবার বিকাল ৩টার দিকে যশোর সেনানিবাস থেকে আসা সেনাবাহিনীর ১৯ সদস্যের একটি দল মেজর তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মাইন উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করে। এ সময় গাংনী থানা-পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করেন।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) শিমুল কুমার জানান, গত শনিবার সকালে বেতবাড়িয়া গ্রামের একটি জমিতে মাইনসদৃশ বস্তু দেখতে পান স্থানীয় কৃষক কাদা মালিথা। পরে মাটি খুঁড়ে আরও কয়েকটি বস্তু পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি নিরাপত্তার আওতায় নেয়।
পুলিশ জানায়, ওই জমি থেকে প্রথমে পাঁচটি ল্যান্ডমাইনের খালি বাক্স উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়।
এরপর সেনাবাহিনীর মাইন নিষ্ক্রিয়কারী দলকে খবর দেওয়া হলে সোমবার যশোর সেনানিবাস থেকে একটি দল বেতবাড়িয়ায় যায়। দলটি মাটি খুঁড়ে একে একে ১৭টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন ও ৭৩টি অ্যান্টি-পার্সন মাইন উদ্ধার করে। পরে সেগুলো টকটি নদীর পাড়ে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, ১৯৭১ সালে বেতবাড়িয়া গ্রামটি মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ওই সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর একাধিকবার সম্মুখযুদ্ধ হয়। গ্রামের মধুগাড়ি মাঠেও কয়েক দফা যুদ্ধ হয়েছিল। তাদের ধারণা, মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এসব মাইন মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়ে থাকতে পারে।




