বদলি হতেই রাতের আঁধারে সরকারি পুকুরের মাছ ধরে নিলেন ভূমি কর্মকর্তা

জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন সরকারি পুকুর
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বদলির আদেশ পাওয়ার পর সরকারি পুকুর থেকে রাতের আঁধারে মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা আল আমিন উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে একই উপজেলার গুয়রেখা ইউনিয়নে বদলি করা হয়েছে।
গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন সরকারি পুকুরে মাছ ধরার এ ঘটনা ঘটে। সরকারি পুকুর থেকে রাতে মাছ ধরে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বদলির আদেশ পাওয়ার পর আল আমিন রাত আড়াইটার দিকে কয়েকজন জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নিয়ে ওই পুকুর থেকে মাছ ধরেন। পরে মাছগুলো ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়া হয়। এ সময় প্রায় আড়াই বস্তা মাছ ধরা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারি মালিকানাধীন পুকুরের মাছ ধরতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। আল আমিন রাতের আঁধারে জেলেদের দিয়ে মাছ ধরিয়েছেন। এভাবে সরকারি পুকুর থেকে মাছ ধরে নেওয়া অনিয়মের শামিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলে খোকন দাস জানিয়েছেন, আল আমিন তাকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে পুকুরের মাছ ধরতে বলেন। তার কথামতো তিনি সাতজন লোক নিয়ে মাছ ধরেন। পরে তারা প্রায় আড়াই বস্তা মাছ ধরেন। তবে মাছ ধরার পর আল আমিন তাকে মাত্র দুটি ছোট মাছ দিয়ে পাঠিয়ে দেন। পাঁচ হাজার টাকা পারিশ্রমিক এখনো পাননি বলে দাবি করেছেন খোকন।
জলাবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের গ্রাম চৌকিদার বিধান কুমার জানিয়েছেন, রাতে মাছ ধরার খবর পেয়ে তিনি ভূমি অফিসে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, মাছ ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে গেছে। সকালে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে বিষয়টি জানালে তিনি রাতে সরকারি পুকুরে মাছ ধরার বিধান নেই বলে জানিয়েছেন।
জলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী সরোয়ার বলেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার এভাবে রাতের আঁধারে সরকারি পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া অনিয়মের শামিল। আল আমিন এর আগেও এ ধরনের কাজ করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। সরকারি জায়গায় কচু চাষ করে বিক্রি করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহামুদ জানিয়েছেন, জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিজস্ব পুকুরে মাছ ধরার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে রাতে মাছ ধরার বিষয়টি ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় কোনো অসঙ্গতি থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।








