মন্ত্রীর পায়ে লুটিয়ে বিচার চাইলেন সেঁজুতির বাবা-মা

ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের সখীপুরে স্কুলছাত্রী সেঁজুতি রানীর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত মিললে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন আশ্বাস দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি।
শুক্রবার সেঁজুতির বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়েছিলেন মন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রীর পায়ে লুটিয়ে পড়ে মেয়ের হত্যার বিচার ও জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান সেঁজুতির বাবা-মা।
মন্ত্রী বললেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া উচিত। প্রতিবেদনে যদি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
‘রামিসা হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচার মাত্র ছয় কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছিল। এ ঘটনাতেও একইভাবে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে’— উল্লেখ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী।
এ সময় সেঁজুতির বাবা-মায়ের হাতে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন মন্ত্রী।
শোকাহত পরিবারের কান্নায় পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকাজুড়েও নেমে আসে শোকের ছায়া।
সেঁজুতির বাবা ফালু চন্দ্র দাবি— তার মেয়েকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি।
সখীপুর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন পিপিএম জানান, সেঁজুতি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে কোনো অপরাধের আলামত মিললে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২০ জুন বিকেল ৪টার পর সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফালু চন্দ্রের মেয়ে এবং আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সেঁজুতি রানী নিখোঁজ হয়। দুদিন পর ২২ জুন সকালে সখীপুর উপজেলা পরিষদের পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।





