মোরেলগঞ্জ
অবৈধ বাঁধ অপসারণ, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে ৫ গ্রামের মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নির্মিত একাধিক অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকার।
উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের শুভরাজকাটি এলাকায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে স্থানীয়দের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে এসব বাঁধ কেটে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, তেলিগাতি ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ দাস এবং সার্ভেয়ার আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয়রা জানায়, ১০ থেকে ১২ বছর ধরে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি একাধিক বাঁধ নির্মাণ করে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বন্ধ রেখে মাছ চাষ করে আসছিলেন। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতীশ সরকার জানালেন, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জনস্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নির্মিত এসব বাঁধের কারণে এলাকার কৃষিজমি ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ এসব বাঁধ অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, প্রশাসনের এ উদ্যোগে বাঁধ অপসারণের ফলে পঞ্চকরণ ইউনিয়নের মিস্ত্রীডাঙ্গা গ্রামসহ পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলিজমি আবার চাষাবাদের আওতায় আসবে। জমিগুলো এখন দুই ফসলি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কয়েক হাজার গ্রামবাসী। তারা বললেন, পানি নিষ্কাশনের পথ সচল হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেরও উন্নতি হবে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহর মতে, জনস্বার্থে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এমন অবৈধ স্থাপনা ও বাঁধের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।






