কক্সবাজারে আবারও পাহাড়ধস: গৃহবধূর মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে আবারও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে লিমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন মাটি চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা অভিযান চালাচ্ছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টির মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের বসতবাড়ির ওপর পড়ে। এতে লিমা ও তার স্বামী জসিম মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক লিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার ভাষ্য, ১৪ বছর আগে জসিমের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, লিমা দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ফিস ফ্রাই বিক্রি করতেন। প্রতিদিনের আয়ে চলত চার সদস্যের সংসার।
এদিকে পাহাড়ধসের পর স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পাহাড়ের নিচে থাকা আরও কয়েকটি ঘর মাটিচাপা পড়েছে। সেখানে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। তারা স্থানীয়দের সহযোগিতায় সম্ভাব্য আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ বা হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেছেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি এখনও বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।




