কোরবানির পশুর হাটে জমেনি, দাম নিয়ে হতাশ মাগুরার খামারিরা

ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে মাগুরার বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। দেশি গরুর পাশাপাশি উন্নত জাতের গরুও উঠছে হাটে। কয়েক মাস ধরে লালন-পালন করা পশু বিক্রির আশায় খামারি ও ব্যবসায়ীরা হাটে আনলেও এখনও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা না মেলায় হতাশ অনেক বিক্রেতা।
মাগুরা জেলার অন্যতম বড় কোরবানির পশুর হাট বসেছে কাটাখালী বাজার সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে প্রায় এক হাজার গবাদিপশু বিক্রির জন্য আনা হয়েছে। হাটজুড়ে ছোট-বড় দেশি গরুর উপস্থিতিই বেশি চোখে পড়েছে। বিক্রেতাদের আশা, এবার দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকবে।
মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা, নহাটা বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি ও বেপারীরা পশু নিয়ে এসেছেন। ঈদ ঘনিয়ে এলে বাজার আরও চাঙা হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
বিক্রেতা নুরুল হোসেন অভিযোগ করেন, বর্তমানে হাটে যারা আসছেন তাদের বেশিরভাগই মধ্যস্বত্বভোগী ও পাইকারি ক্রেতা। তারা কম দামে পশু কিনতে চান। এতে খামারিরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না এবং দুশ্চিন্তায় পড়ছেন।
খামারি কুদ্দুস মিয়া আঞ্চলিক ভাষায় তুলে ধরেন, “সাকাল থেইকা তিনডা গরু নিয়াই আইছি। দুপুর হইয়া গেল, কেউ ঠিকমতো দামই কইতাছে না।” তার ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় এবার গরু পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও পরিচর্যার ব্যয় বাড়লেও বাজারে সেই অনুযায়ী দাম মিলছে না। তবে ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ক্রেতা বাড়বে বলেই তিনি আশা করছেন।
হাটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রতারক চক্রও। প্রতি বছরই দালাল ও পকেটমার চক্র নানা কৌশলে বিক্রেতাদের টার্গেট করে। এ কারণে হাট এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাট ইজারাদার মনিরুল ইসলাম।
তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর এই হাটে কেনাবেচার সময় কয়েকজন দালাল ধরা পড়েছিল। এছাড়া পকেটমারের উৎপাতও ছিল বেশ বেশি। তাই স্থানীয় প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মাগুরায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬২ হাজার ৫০৮টি। বিপরীতে জেলায় প্রস্তুত রয়েছে ৭৬ হাজার ৯৭৪টি পশু। ফলে জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই।
মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিহির কান্তি বিশ্বাস জানিয়েছেন, এ বছর মাগুরায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত থাকায় সংকটের আশঙ্কা নেই।





