দুই এমপির গাড়িতে হামলা

কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জে দুই সংসদ সদস্যের (এমপি) গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এসব ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে গণ অধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুর। এতে দুপক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আয়নুল হকের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তার গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে আয়নুল হক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ফেসবুক লাইভে প্রশাসনের কাছে নিজের নিরাপত্তা ও হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটকের দাবি জানিয়েছেন। তার দাবি, এ হামলার সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা জড়িত।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বললেন, ‘হামলায় এমপি আঘাতপ্রাপ্ত হননি। তবে গাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।’
এর আগে গতকাল বিকালে কুষ্টিয়ার ছয় রাস্তার মোড়ে একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে গণ অধিকার পরিষদ। ‘গণ অধিকার পরিষদ দুজনের দল’ সম্প্রতি এমপি আমির হামজা এমন বক্তব্য দিয়েছেন। যার প্রতিবাদে এই সমাবেশের ডাক দেয় গণ অধিকার পরিষদ। বিকাল ৫টা থেকে দলটির নেতাকর্মীরা সেখানে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আমির হামজার গাড়ি সেখানে পৌঁছালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে একপর্যায়ে তা দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। হামলা করা হয় আমির হামজার গাড়িতে।
খবর
পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের
নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে
সন্ধ্যার দিকে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে গণ অধিকার পরিষদ কার্যালয়ে
হামলা এবং ভাঙচুর করা হয় বলে দলটির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
ঘটনার বিষয়ে দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। গণ অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা
সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেকের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে উসকানিমূলক আচরণ
করে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, এমপি আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন
এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, গণ অধিকার পরিষদের সদস্যরা এমপির গাড়িবহরে অতর্কিত
হামলা চালিয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানালেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি






