খন্দকার মারুফ
৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়

সংগৃহীত ছবি
‘৭৫-এর ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। সেদিনই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়। সেদিন চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশকে তাদের করদরাজ্যে পরিণত করতে চেয়েছিল। সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিলেন।’
আজ শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত পৃথক দুটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ঐতিহাসিক এই দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করেই জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। সততা, সাহসিকতা, নেতৃত্বের গুণ ও জাতীয়তাবোধের কারণে তিনি সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। শহীদ জিয়া নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি। পরিস্থিতির প্রয়োজনে তিনি স্বাভাবিকভাবেই নেতৃত্বের আসনে চলে এসেছিলেন।
তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর সকালে রেডিওতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের শেষাংশে বলেছিলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’ তার এই শাণিত বক্তব্য জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক দলিল।
খন্দকার মারুফ বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করেছে। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তিতে রেখেছে। শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের অবদানকে খাটো করেছে। অন্যের অবদান অস্বীকার করা আওয়ামী লীগের মজ্জাগত অভ্যাস। গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্র ধ্বংস করে পালিয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া দেশে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাক্স্বাধীনতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাদের সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতা-মাতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তার গতিশীল নেতৃত্ব দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে তারেক রহমান দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতা দিয়ে আগামীর সমৃদ্ধ দেশ গড়ছেন। জনগণের কল্যাণে নানা উদ্যোগ নিয়ে সেগুলোর বাস্তবায়নও শুরু করেছেন। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চালিয়ে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনটি জনগণের শান্তি বিনষ্ট করার জন্য নানা ফন্দিফিকির করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পলাতকরা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দেশপ্রেমিক জনগণ এসব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।
দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন। মেঘনার সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মৌসুমী আক্তার।
দুটি আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম, বিএনপি নেতা এম এ লতিফ ভূঁইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, আ. অদুদ মুন্সী, জসিমউদ্দিন আহমেদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, এম আবদুস সাত্তার, কাওসার আলম সরকার, কামাল হোসেন, এম সালাহউদ্দিন সরকার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদ, আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার, ইউসুব হোসেন নয়ন, দিলারা শিরীন, ভিপি শাহাবউদ্দিন ভূঁইয়া, আনোয়ার হোসেন আনন্দ, শাহ আলম সরকার, শরীফ চৌধুরী, আতাউর রহমান ভূঁইয়া এবং রোমান খন্দকার প্রমুখ।




