মাগুরায় যুবদল নেতার মৃত্যু নিয়ে রহস্য, কী বলছে পরিবার

শাকের হোসেন
মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার ভোর ৬টার দিকে শহরের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মাথার পেছনে একটি ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
তবে এটি গুলির ক্ষত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত শাকের হোসেন মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
শাকেরের স্বজন খবির হোসেন বলেছেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাউন্টারে অবস্থানকালে যাত্রীরা বাথরুমে গেলে শাকেরের কাছে দুজন ব্যক্তি আসেন। এরপর একটি শব্দ শোনা যায়। পরে যাত্রীরা তাকে কাউন্টারের টেবিলে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর অন্য কাউন্টারের লোকজন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাইনুল হাসান জানান, সকাল ৮টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি শাকেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার মাথার পেছনে ছিদ্রের চিহ্ন পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তার মরদেহ হাসপাতালের অস্থায়ী লাশঘরে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে, শাকের হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে তাদের এ দাবির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিহত শাকের হোসেনের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে ১০টি রাজনৈতিক মামলা ছিল বলে জানা গেছে।
মাগুরা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বললেন, ‘প্রথমে আমরা শাকেরের মৃত্যুর খবর পাই। পরে গোসল করানোর সময় তার মাথার পেছনে গুলির মতো একটি ক্ষত দেখতে পাই। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ। তিনি জানালেন, শাকেরের মাথার পেছনে একটি ছিদ্র পাওয়া গেছে। তবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।




