গড়াই নদীতে শিশুকে ফেলে মায়ের ঝাঁপ

সংগৃহীত ছবি
বিকেলের শান্ত গড়াই নদী। প্রতিদিনের মতোই হরিপুর সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করছিলেন পথচারী ও স্থানীয়রা। কিন্তু ক্ষণিকের মধ্যেই সেই চেনা ছবিটা বদলে গেল এক চরম বিভীষিকায়। নিজের কোল থেকে মাত্র চার মাস বয়সী ফুটফুটে সন্তানকে নদীতে ছুঁড়ে ফেললেন মা! মুহূর্তের স্তব্ধতা কাটিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই, নিজের জীবনের ইতি টানতে নিজেও ঝাঁপ দিলেন নদীতে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর সেতু এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। স্থানীয় মাঝিদের তৎপরতায় ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে শিশু সন্তান সাইফ ওসমান হাদী।
উদ্ধার হওয়া নারীর নাম যমুনা খাতুন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের আব্দুল আলীমের স্ত্রী তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুর বেলতলা এলাকায় বাবার বাড়িতে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলে হরিপুর সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা যমুনা খাতুন হঠাৎ করে নদীতে ছুড়ে ফেলেন তার কোলের শিশুকে। এরপর নিজেও ঝাঁপ দেন নদীতে। ঘটনাটি দেখে আশপাশের মানুষ চিৎকার শুরু করলে নদীতে থাকা কয়েকজন মাঝি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে উদ্ধার করেন যমুনাকে। তবে প্রবল স্রোতে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় শিশু হাদী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নদীর স্রোত বেশি থাকায় খুলনা থেকে আনা হয়েছে বিশেষ ডুবুরি দল।
শিশুটির বাবা আব্দুল আলীম বলেছেন, ‘আমার স্ত্রীর মানসিক সমস্যা রয়েছে। সে কখন কী করে বা বলে, তার কোনো ঠিক থাকে না। আমাদের চার মাসের বাচ্চাটা কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিল। আমি চেয়েছিলাম স্ত্রী-সন্তানকে নিজের বাড়িতে এনে চিকিৎসা করাতে। কিন্তু যমুনা আর আমার শাশুড়ি তাদের বাড়িতে রেখেই চিকিৎসা করাতে চাচ্ছিলেন। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছুদিন ধরে পারিবারিক টানাপোড়েন চলছিল।’
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরশেদ আলী বলেছেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হওয়ায় খুলনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দলকে ডাকা হয়েছে।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর জানিয়েছেন, থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যমুনা খাতুনকে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।






