গাংনীতে ওষুধ সংকটে ৩৫ কমিউনিটি ক্লিনিক, ভোগান্তিতে মানুষ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। ছবি: আগামীর সময়
ওষুধ সংকটে প্রায় তিন মাস ধরে স্থবির মেহেরপুরের গাংনীর ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম। প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়া কমেছে রোগীদের আনাগোনা। অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মোছা. মফিজা খাতুন বলেছেন, ‘আমরা এখানে জ্বর, ঠাণ্ডা, কাশি, আমাশয়সহ সব ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে পেতাম। দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ পাচ্ছি না। সরকারি ওষুধ গুলো খুব ভালো, খেলে দ্রুত কাজ হয়। প্রতিদিন মানুষ আসে আর ঘুরে চলে যায়।’
ওষুধ নিতে এসে ফিরে যাচ্ছিলেন সানোয়ার খাঁ। এসময় বললেন, ‘ওষুধ পাচ্ছি না। ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওষুধ নেই... এখান থেকে ভালো ধরনের সেবা পেতাম। এখন তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। তাই দ্রুত এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করা হোক।’
তিন মাস ধরে কিছু ওষুধ আসলেও তা দিয়ে শতভাগ প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে না বলে জানালেন রামনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আমিরুল ইসলাম। ওষুধ না পেয়ে তাদের উপর অনেকেই ক্ষোভ ঝাড়ছেন বলেও জানালেন।
বেতবাড়িয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জিন্নাতুন নেছা জানিয়েছেন, শিশু রোগীদের অভিভাবক কিংবা গর্ভবতী নারীরা এলে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে ওষুধ নেই পর্যাপ্ত।
সাহারবাটি ইউনিয়নের হিজলবাড়িয়া গ্রামের ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোছা. রেকসোনা আক্তারের অভিযোগ, ৮ মাস ধরে বেতন বন্ধ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ ছিল ওষুধ সরবরাহ। মে মাস থেকে স্বল্প পরিমাণে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। জ্বর, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধসহ জিংক ট্যাবলেট ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অল্প পরিমাণে দেওয়া যাচ্ছে। আগে এসব তিন থেকে চার কার্টন পাওয়া যেত। এখন আসছে এক কার্টন করে।
‘সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান ইডিসিএল সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ওষুধ সরবরাহ করত। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এলসি বন্ধ ছিল। যে কারণে সরবরাহ বন্ধ ছিল’- বললেন গাংনী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক।
‘ইডিসিএলকে চাপ দেওয়ার সুযোগ নেই। চাহিদা দেওয়ার পর তারা আমাদের জানালে তখন আমরা গিয়ে ওষুধ নিয়ে আসি। বেসরকারি কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে ওষুধ সরবরাহের জন্য চুক্তি করার পরিকল্পনা চলছে’- যোগ করেন তিনি।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সরবরাহ দ্রুতই স্বাভাবিক হবে নলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা।









