সেরা ডুবুরি সাদিকের ডুবে মৃত্যু তদন্তে কমিটি

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মো. সাদিকের মরদেহ মিলেছে শীতলক্ষ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
ফায়ার সার্ভিসের সেরা ডুবুরি পদক পাওয়া মো. সাদিকের পানিতে ডুবে মৃত্যু খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে বাহিনীটি। ফায়ার সার্ভিস ঢাকার উপপরিচালক সালেহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানালেন এসব তথ্য। মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে গোয়ালনন্দ বাজারের কুমরাকান্দি গ্রামে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। জানাজা শেষে তাকে সেখানেই দাফন করা হয়েছে।’
সেরা ডুবুরি হিসেবে গত বছরই সাদিক পেয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের রাষ্ট্রীয় পদক। গত মাসেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে ডুবে যাওয়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধারে ছিলেন তিনি। সেরা এই ডুবুরি প্রাণ হারালেন পানিতে ডুবে।
রাজবাড়ির ছেলে সাদিক কাজ করতেন নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীতে পড়ে ছিলেন নিখোঁজ। আট ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেন সহকর্মীরা।
শীতলক্ষ্যা নদী ফায়ার স্টেশনের জেটির সামনে প্রায়ই জমে কচুরিপানা। গতকাল সকালে সেসব পরিষ্কারে কাজ করছিলেন সাদিকসহ তিন ডুবুরি। জেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আরেফিন জানালেন, স্পিডবোটের সামনের দিকে থাকা সাদিক ঢেউয়ের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান নদীতে।
সেরা পদক পাওয়া একজন ডুবুরি নদীতে ডুবে গেলেন কীভাবে? জানতে চাইলে আরেফিন বললেন, ‘এটি নিছক একটি দুর্ঘটনাই মনে হচ্ছে। তিনটি স্পিডবোট পাশাপাশি ছিল, কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য সাদিক নদীতে নামলে হয়তো স্পিডবোট এবং পাশে থাকা পল্টুনের নিচে দিগ্বিদিক হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। আমরা তার মরদেহ ঘটনাস্থলের ৪০০ গজ দূর থেকে উদ্ধার করি। স্রোতে তার মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। তার শরীর কোথাও আটকে ছিল না।’
পড়ার সময় সাদিক মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন বলে ধারণা করেন ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই ডুবুরি। তাদের বরাতে এ তথ্যও জানিয়েছেন জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। সাদিকের মতো প্রশিক্ষিত ডুবুরির মৃত্যু বাহিনীর বড় ক্ষতি ও শূন্যতা তৈরি করেছে বলেও জানালেন তিনি।





