প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েই জার্মানি পাড়ি, আলোচনায় ছাত্রনেতা রাফি

হাসিবুর রহমান রাফি মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত
রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে জার্মানি পাড়ি জমিয়েছেন জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণ ছাত্রনেতা হাসিবুর রহমান রাফি মোল্লা। তার এই বিদেশযাত্রা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাফি মোল্লা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন মোল্লার ছোট ছেলে। গত মে মাসে তিনি চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। অল্প বয়সে তার এমন ঘোষণায় তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, স্কলারশিপ পেয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন রাফি। ২০২৩ সালে করা তার ভিসার আবেদন সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়ায় তিনি জার্মানি যান।
তবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দেওয়ার পর বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়ে এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। ফলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, ‘রাফি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ দেশে ভালো মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তার জীবন সুন্দর হোক।’
রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বাহার হোসেন বাবু বলেছেন, ‘রাফির বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া গর্বের বিষয়। তবে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই বিদেশে চলে যাওয়ায় অনেক সমর্থক, বিশেষ করে তরুণরা হতাশ ও বিভ্রান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত তরুণ রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস বাড়াতে পারে।’
রামগঞ্জ মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেছেন, ‘করোনা, বন্যা ও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে রাফি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। আমি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’
তবে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লেখেন, ‘বিএনপির রাজনীতির নির্লোভ পরিবারগুলো একে একে বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে। অন্যদিকে সুবিধাবাদীরা ফ্যাসিবাদের সময় দুর্বৃত্তদের সহযোগী থেকেও এখন ফ্রন্টলাইনার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই ক্ষোভগুলোই নীরব প্রতিবাদের রূপ নিয়ে চারদিকে আহাজারি করছে।’
রাফি মোল্লার বিদেশযাত্রার বিষয়ে তার নিজের কোনো সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাফি মোল্লার বিদেশযাত্রা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অনেকেই এটিকে তার ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ গঠনের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।


