এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা
নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে পাসের হার ৯৯.৯৪%

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও ভালো ফল করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। ছবি: আগামীর সময়
সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও ভালো ফল করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। এবার কলেজটির ১ হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৫৫১ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬১ জন। একজন শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
আজ শনিবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ সাফল্য উঠে এসেছে। ফল প্রকাশের পর কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়।
কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৯৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছেন। এ শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ জন। মানবিক বিভাগে ৩১১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৮ জন।
কলেজটির শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং পরিশ্রমের কারণে তারা ভালো ফল করতে পেরেছেন। নিয়মিত মনিটরিং ও পাঠদানের ফলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তাদের অভিমত।
কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লাহ আহসান জানিয়েছেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার নির্দেশনায় নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, বাড়ি পরিদর্শন, টিউটোরিয়াল, মাসিক পরীক্ষা এবং গাইড শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান করা হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ফল অর্জিত হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় শতভাগ পাসের সাফল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা এ সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। তিনি বলেন, এটি নরসিংদীবাসীর অর্জন। সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ২০০৮ সালে প্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় ৯৯ শতাংশ পাসের হার অর্জন করে। ২০০৯ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম এবং সারা দেশে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১০ সালে ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ এবং ২০১১ সালে সপ্তম স্থান অর্জন করে। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে শতভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ড এবং জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে কলেজটি।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষা বোর্ড সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ করার পরও ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।




