লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ল ১১ বসতঘর ও ৬ দোকান

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আগুনে অন্তত ১১টি বসতঘর ও ৬টি দোকান পুড়ে গেছে। ছবি: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আগুনে অন্তত ১১টি বসতঘর ও ৬টি দোকান পুড়ে গেছে। আজ রবিবার ভোরে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোর ৫টার দিকে স্থানীয় মাদকাসক্ত যুবক মো. সোহেল পেট্রল ঢেলে নিজের ঘরে আগুন দেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বসতঘর ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি ও দোকানের টিন, আসবাবপত্র, মালামালসহ বিভিন্ন জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত জাবের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. জাবের জানান, আগুনে তার দোকানের বিপুল মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানের পেছনের বসতবাড়ি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। দোকানের পেছনের ঘরের সোহেল নামের এক যুবক আগুন লাগিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আব্দুর ওহাব বলেছেন, ‘আগুন নিয়ন্ত্রণে রায়পুরের দুটি ও লক্ষ্মীপুরের একটি ইউনিট কাজ করেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অভিযোগের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
সরেজমিন গিয়ে ঘরবাড়ি ও দোকানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাজানো সংসার ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
রায়পুর থানার ওসি নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সোহেলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাযনি। ঘটনার তদন্ত চলছে।






