মেঘনায় সম্পত্তির বিরোধে প্রতিবন্ধীর বাড়িতে হামলা-লুটপাট

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার মেঘনায় সম্পত্তির বিরোধে প্রতিবন্ধী শাহজালালের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের মৈশারচর গ্রামে।
এ ঘটনায় আজ শনিবার বিকেলে মেঘনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শাহজালাল।
অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার মৈশারচর গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং মৃত সদর আলীর ছেলে আক্তার হোসেন (৫০), হারুন অর রশীদ (৫৫) ও সোহরাব হোসেন (৬০)। তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে শাহজালালের বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী ফুলমালা ও বিলকিছকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর শাবল দিয়ে ফুলমালার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি সরে যাওয়ায় আঘাতটি তার নাকে লাগে। এতে তিনি আহত হন। তাদের রক্ষা করতে জরিনা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে জাহাঙ্গীর ও আক্তার গামছা দিয়ে জরিনার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন।
এ সময় তার গলায় থাকা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ির বেড়া ও কয়েকটি ফল গাছ কেটে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় তিনজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ভুক্তভোগী শাহজালাল বলেন, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িঘর নির্মাণ করে আমি ভোগদখলে রয়েছি। সম্পত্তি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে রায় আমার পক্ষে আসে। এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমাকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করে জবরদখলের চেষ্টা করছেন। এ বিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার পাশাপাশি হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ করেন শাহজালাল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







