বারহাট্টা
বেশি দামে সার বিক্রি, প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের সঙ্গে ব্যবসায়ীর দুর্ব্যবহার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেত্রকোনার বারহাট্টায় আমন মৌসুমের শুরু থেকেই রাসায়নিক সারের সংকট ও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত কয়েকদিনে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতে একাধিক সার ডিলারকে জরিমানাও করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিএপি, টিএসপিসহ বিভিন্ন ধরনের সার বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১ হাজার ৫০ টাকা নির্ধারিত মূল্যের ডিএপি সার ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাউসী ইউনিয়নের ভেটুয়াকান্দার কৃষক নূর নবী ফকির বলেন, আমি বারহাট্টা থেকে ডিএপি সার ১৭০০ বস্তা কিনেছি। সারা বাজারে যাচাই করে পরে গোপালপুর বাজারের বিদ্যা মিয়ার দোকান থেকে এনেছি। বারহাট্টায় সবাই এই দামেই সার বিক্রি করছে। দামাদামি করলে বলে সার নেই।
এদিকে সার সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকেরা সংবাদ প্রকাশ করছেন। এসব সংবাদ প্রকাশের জেরে কয়েকজন সাংবাদিককে সার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অপবাদ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের সুশ্রী রাণী সাহা রায় ট্রেডার্সের পরিচালক ডিএপি ও টিএসপি সার অটোরিকশায় লোড করার সময় সেখানে উপস্থিত হন দৈনিক যুগান্তরের বারহাট্টা উপজেলা প্রতিনিধি জাকিরুল ইসলাম।
তিনি সার কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানাকে জানানো হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কোনো সার ব্যবসায়ীর কাছে ভাউচার বা তথ্য চাওয়ার অধিকার সাংবাদিকদের নেই। এ ধরনের বিষয় সার নীতিমালায় নিষিদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে তথ্য দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে সাংবাদিকদের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য ও বক্তব্য চাওয়া সংবাদ সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। সরকারি ভর্তুকিযুক্ত সারের মূল্য, মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয়সংক্রান্ত বিষয় জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এসব বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করতে পারেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে বারহাট্টায় আরও দুই সার ডিলারকে জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান চালায়।
অন্যদিকে চিরাম ইউনিয়নের সার ডিলার বুলবুল আহমেদ অভিযোগ করেন, বারহাট্টা উপজেলায় কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের অনেক সময় মাঠে দেখা যায় না। তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নন্দন এক সপ্তাহ ধরে মাঠে আসছেন না বলে অভিযোগ করেন। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
একইসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকেও নিয়মিত মাঠে দেখা যায় না বলে দাবি করেন বুলবুল আহমেদ।



