আশ্রয় নিয়ে শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, রোহিঙ্গা নারী আটক

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারে এক পরিবারের মানবিকতার সুযোগ নিয়ে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক নারী রংবাহার উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্র জানায়, গত ৩ জুন কক্সবাজার জেলা কারাগারে স্বামীকে দেখতে এসে বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করেন রংবাহার। তিনি জানান, তার মোবাইল ফোন হারিয়ে গেছে। এরপর কারাগারের পাশের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন ও তার স্ত্রী সুমি আক্তারের কাছে সাহায্য চান। মানবিক কারণে ওই পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়।
পরিবারের অভিযোগ, আশ্রয় নেওয়ার সময় তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন।
পরিবারটির দাবি, কয়েক দিন তাদের বাড়িতে থাকার পর গত ৫ জুন দোকান থেকে নাস্তা কিনে দেওয়ার কথা বলে সাদ্দাম-সুমির চার বছরের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন রংবাহার। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন করে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্তানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরিবারটি ধাপে ধাপে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। তবে এরপরও শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার বিকেলে পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রংবাহার নিজেকে রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেছেন। তিনি কলাতলীর গইয়ুমতলী ভাঙারমোড় এলাকার এখলাস নামের এক ব্যক্তির পরামর্শে শিশুটিকে অপহরণ করেছিলেন।
তবে যোগাযোগ করা হলে এখলাস এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অপহৃত শিশুর মা সুমি আক্তার বললেন, মানবিক কারণে আমরা তাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছে। এটা একটি পরিকল্পিত ঘটনা।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




