বরিশাল জেলা শিল্পকলার কালচারাল অফিসারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার তানভীর রহমান
বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার তানভীর রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মামুন খন্দকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মী কানিজ জোহরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন’ কর্মসূচির বিষয়ে জানতে কানিজ জোহরা কালচারাল অফিসার তানভীর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি অনুষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য ও শিল্পীদের পারিশ্রমিকের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য না দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) বরিশাল দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগর এবং বরিশাল মহানগর জাসাসের আহ্বায়ক মীর আদনান আহমেদ তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
কানিজ জোহরার দাবি, শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জাসাসের ওই দুই নেতার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে এস এম সাব্বির নেওয়াজ সাগরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কানিজ জোহরা বলেন, ‘জাসাস শিল্পকলায় তাদের নিজস্ব কর্মসূচি পালন করতেই পারে, তাতে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অজুহাতে একটি সংগঠনের নেতারা পুরো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এখানে সরকার নিয়োজিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রয়েছেন। প্রশাসনিক তথ্যের জন্য কর্মকর্তাদের পরিবর্তে কোনো দলীয় নেতার কাছে যেতে বলাটা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’
কানিজ জোহরা বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমি দল-মত নির্বিশেষে সকল সাংস্কৃতিক কর্মীর উন্মুক্ত স্থান। এখানে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশে সংস্কৃতি চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যক্তিপ্রভাবে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রশিক্ষক, বিচারক কিংবা শিল্পী নির্বাচন বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।’
অভিযোগের বিষয়ে কালচারাল অফিসার তানভীর রহমান বলেন, ‘জাসাস নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা রয়েছে। আমি সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই কাজ করছি।’
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মামুন খন্দকার বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হবে।
তিনি বলেন, ‘বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি একটি শতভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে সরকার নিযুক্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। জাসাস বা অন্য কোনো সংগঠনের নেতারা কালচারাল অফিসারকে কাজে সহযোগিতা করতে পারেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করার কোনো অধিকার তাদের নেই।’



