সখীপুরে স্বাস্থ্য সহকারীর লাশ উদ্ধার: হত্যা মামলা দায়ের, তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রীর

নিহত আব্দুল আউয়াল শফি
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়কের পাশে স্বাস্থ্য সহকারীর লাশ উদ্ধারের পর এটাকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন তার স্বজনরা। তার স্ত্রী মামলাও করেছেন হত্যার অভিযোগ এনে।
এটি হত্যাকাণ্ড না কি সড়ক দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ ময়নাতদন্তের অপেক্ষা করছে। এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান নির্দেশ দিয়েছেন মৃত্যুর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে।
নিহত স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল আউয়াল শফি মন্ত্রীর আত্মীয় হন। তিনি সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ‘স্বাস্থ্য সহকারী’ ছিলেন। সখীপুরের যাদবপুর ইউনিয়নের বোয়ালী গ্রামের মো. মোশাররফ হোসেনের ছেলে তিনি।
গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে নলুয়া-টাঙ্গাইল সড়কের নলুয়া বাজারের পশ্চিম পাশে শফির লাশ পাওয়া যায়।
শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি থেকে যাদবপুর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন শফি। পথে নলুয়া বাজারের পশ্চিম পাশে সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে যাদবপুর ইউনিয়নের বোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে শফিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর মধ্যে তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
কেন হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন নিহতের ভাই মোহাম্মদ এস এ টুটল, স্বজন শফিকুল ইসলাম, হাবীব, আনিসুর রহমান ও ফরিদ উদ্দিন।
তারা বলেন, শফির মগজের কয়েকটি অংশ সড়কে পড়ে ছিল। অথচ তিনি যে মোটরসাইকেলে বাড়িতে ফিরছিলেন, সেটি সড়কের পাশেই পড়ে ছিল অক্ষত। লাশের মাথা ও গলার অবস্থা দেখে ঘটনাটি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।
নিহতের ভাই টুটল বলছিলেন, গতকাল দুপুর ১টার দিকে ভাইয়ের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকার খবর পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখানে ছুটে যান।
‘সেখানে গিয়ে দেখি, আমার ভাইয়ের মাথার এক পাশ থেঁতলে গেছে এবং গলায় কাটা দাগ। মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ রাস্তার একাধিক স্থানে পড়ে আছে। কিন্তু আমার ভাইয়ের মোটরসাইকেলটি অক্ষত।’
তার যুক্তি, ‘সিএনজি, ট্রাক কিংবা ভারী কোনো যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে আমার ভাই মারা গেলে মোটরসাইকেলটি অক্ষত থাকত না। ভারী কোনো যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো আলামতও আমরা ঘটনাস্থলে দেখতে পাইনি। আমার ভাইয়ের গলায় কাটার দাগ দেখে ও মোটরসাইকেলটি অক্ষত থাকায় মনে হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তা না হলে গলায় কাটার দাগ এলো কীভাবে?’
এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ফুফাতো বোনের ছেলে শফির অপমৃত্যুর খবর শুনে গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে যান টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ আযম খান।
শফির অন্য স্বজনরা মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জালে তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের নির্দেশ দেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তারা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে,’ বলার পাশাপাশি তিনি জানান, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও পরীক্ষা করছেন তারা।







