বাধা পেরিয়ে ডানা মেলল টিয়া-ময়না-ঘুঘু-শালিক

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কামরুজ্জামান সজল একজন গবাদিপশু প্রজনন টেকনিশিয়ান। বাড়িতেই খাঁচাবন্দি করে রেখেছিলেন বেশকিছু বুনোপাখি। সে খবর পায় বন বিভাগ ও পুলিশ।
পাখি উদ্ধারে সজলের বাড়িতে গেলে তার লোকজনের বাধার মুখে পড়েন কর্মকর্তারা। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামলে পাখিগুলোকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেন তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। জানিয়েছেন বন বিভাগ সাতছড়ির সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া মাধবপুর উপজেলার রঘুনন্দন রেঞ্জের তেলমাছড়া বিট কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বললেন, গোপন তথ্যে কালিকাপুর গ্রামের সজলের বাড়িতে অভিযানে পাওয়া যায় তিনটি টিয়াপাখি, চারটি শালিক, ছয়টি ঘুঘু, ছয়টি ডাহুক, তিনটি ময়না এবং একটি কোড়া ও বালিহাঁস।
মেহেদী বললেন, পাখিগুলো উদ্ধার করতে গেলে সজল ও তার স্বজনরা বাধা দেন। এ সময় বন বিভাগের কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। দিনভর উত্তেজনা শেষে কর্মকর্তারা পাখিগুলো উদ্ধার করেন।
পরে ডাহুক, কোড়া ও বালিহাঁসকে মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর এলাকার কাটেঙ্গা বিলে অবমুক্ত করা হয়। টিয়াপাখি, শালিক, ঘুঘু ও ময়নাগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয় সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গভীর বনে। এসব জানালেন বনবিভাগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আবুল।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বললেন, বন্যপ্রাণী ধরা, পালন বা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানালেন কর্মকর্তারা।




