চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ, দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা
- বর্তমান ১৮৭ টাকা মজুরিতে জীবনযাপন অসম্ভব বলে দাবি
- দ্রুত ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকরের আহ্বান
- শ্রমিকদের অভিযোগ, নির্বাচন না থাকায় অকার্যকর ইউনিয়ন
- ন্যায্য অধিকার আদায়ে ব্যর্থ বর্তমান কাঠামো

দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে গণবিক্ষোভ কর্মর্সূচি পালন করেছেন শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট ইউনিয়নের কেজুরিছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা। ছবি: আগামীর সময়
চা শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গণবিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল ও দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন শ্রমিকরা।
আজ শুক্রবার সকালে এ কর্মসূচি পালন করেন উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের কেজুরিছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা।
একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন চা বাগানে ধারাবাহিকভাবে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
চা বাগানের নাটমন্দির-সংলগ্ন মাঠে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা। পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বাগানের চা কারখানার গেটসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এই কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশের সাধারণ চা শ্রমিক ও ছাত্র-যুবকরা। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটি।
সমাবেশে বক্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে একটি পরিবারের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বহন করতে গিয়ে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া তুলে ধরা, অধিকার আদায় এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে কার্যকর আলোচনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচিত নেতৃত্বের অভাবে মজুরি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক বিষয়ও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আকাশ দোষাদ বললেন, ‘দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় সংগঠন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের কথা বলার মতো কার্যকর কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। বিভিন্ন অজুহাতে বছরের পর বছর একই নেতৃত্ব বহাল রাখা হয়েছে। অনেক চা বাগানে ২০১৮ সালের নির্বাচিত পঞ্চায়েত কমিটি বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। পাশাপাশি প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা বাগানে বসবাস করলেও চা শ্রমিকদের নিজস্ব জমির মালিকানা নিশ্চিত হয়নি।’
সমাবেশে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক নেত্রী বিফা বোনার্জী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক বিশু প্রসাদ গোয়ালা, কেজুরিছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মহেশ্বর দাস, রাজঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বৈশিষ্ট্য গোয়ালা, চা শ্রমিক নেতা ডালিম বোনার্জী, রঞ্জু তাঁতী, সাবেক ইউপি সদস্য মাধবী বোনার্জী, চা শ্রমিক ছাত্র-যুবক কমিটির সভাপতি পরিমল বোনার্জী, চা শ্রমিক নেতা জীতেন বোনার্জী ও অনিল বোনার্জী প্রমুখ।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার একই দাবিতে উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের টিপড়াছড়া চা বাগানে কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা।








