ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনওর অপসারণ দাবি

চিতলমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ— সংগৃহীত
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করেছেন তারা।
আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে চিতলমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়োগপ্রত্যাশীরা জড়ো হন। পরে তাদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। দুর্নীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, ছাত্রদল ও যুবদলের কোনো নেতাকর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এমনকি আবেদনকারীদের তালিকাও বিএনপির নেতাদের দেখতে দেওয়া হয়নি।
বিক্ষোভে কয়েকজন নারীকে ঝাড়ু হাতে অংশ নিতে দেখা যায়। তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চিতলমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বাদশা মুন্সি বলেছেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়মের তদন্ত চাই। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকলে তা বাতিল করে যোগ্যদের নিয়োগ দিতে হবে।
বিএনপি নেতা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বললেন, ‘আবেদনকারীদের তালিকা প্রকাশ না করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি।’
বিক্ষোভকারীরা চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রঞ্জন হালদারের অপসারণের দাবি জানান তারা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মোসা. খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রঞ্জন হালদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।





