নলছিটি পৌর প্রকৌশলীকে হুমকি, ৩ বিএনপি নেতার নামে জিডি

নলছিটি পৌরসভা— সংগৃহীত
টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিন বিএনপি নেতার নামে জিডি করেছেন নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান। আজ রবিবার বরিশাল সদর (কোতোয়ালি) থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
জিডিতে অভিযুক্তরা হলেন নলছিটি টিএন্ডটি সড়কের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা (দাবিদার) মো. খন্দকার সালেহ আহমেদ পারভেজ, নান্দিকাঠী এলাকার সাবেক কাউন্সিলর ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সদস্য এনায়েত করিম মিসু এবং নলছিটি পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার।
জিডিতে প্রকৌশলী মিজানুজ্জামান অভিযোগ করেন, টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আজ ৯ আগস্ট ২০২৫ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বরিশালের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের বিআরটিসি কাউন্টারের পাশে অবস্থানকালে খন্দকার সালেহ আহমেদ পারভেজ তার মোবাইল ফোনে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর কিছুক্ষণ পর জেলা বিএনপির সদস্য মো. এনায়েত করিম মিশুও তাকে ফোন করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পৌর সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামান অভিযোগে বলেন, এ ঘটনার পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অভিযুক্তরা যেকোনো সময় তার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় ভবিষ্যতের জন্য বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো মিজানুজ্জামান।
এ বিষয়ে সালেহ পারভেজ বললেন, ‘মিশু ভাইয়ের ফোন ধরে না ফোন ধরে আবার কেটে দিছে একারণে আমি ফোন দিছি। ফোনে কথা-কাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ‘জিডি যেহেতু করা হয়েছে, সেহেতু কোনো না কোনো ঘটনা ঘটেছে। ফোনে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়েছে, তবে বিষয়টি জিডি করার মতো গুরুতর কিছু নয়।’
এ বিষয়ে এনায়েত করিম মিশু বললেন, ‘আমার কাছে ২৫ হাজার টাকা চাইছে, আর না হলে ১৫ হাজার নিতে বলছে! একটা টেন্ডার নিয়ে আজকে চার মাস যাবত ঝামেলা করছে। এরপর তাকে ফোন করলে তিনি ফোন ধরেন না। যে কারণে আমি তাকে বলছি, আপনার বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ঝাড়ু মিছিল করবে।’
গালিগালাজের কথা স্বীকার করলেও প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন এনায়েত করিম মিশু। তার (এনায়েত করিম) কথার শুরুতে ২৫-১৫ হাজার টাকা বললেও শেষে আবার সেটি ২৫ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান বলেন, আমাকে ফোনে অশ্লীল গালিগালাজ করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। মিশু ও পারভেজ ফোন করে বলেন, ‘তোরে জুতা দিয়ে পিটামু, তোরে দেখাইয়া দিমু, জিরো পয়েন্টে আসলে তোর জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলবো’ এবং বিভিন্ন অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এছাড়াও সরোয়ার তালুকদার আমার অফিসকক্ষে গিয়ে বলেন, ‘তোরে মারতে আসছি' বলে হুমকি দেন। তবে টাকা দাবির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।





