জয়পুরহাট পৌরসভা
সাড়ে ৬ হাজার টাকা না দিলে মিলছে না নাগরিকসেবা

জয়পুরহাট পৌরসভা— সংগৃহীত
জয়পুরহাট পৌরসভায় নাগরিকত্ব, মৃত্যু বা ওয়ারিশান সনদ পেতে হলে আগে সাবমার্সিবল পাম্পের ফি বাবদ সাড়ে ৬ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হচ্ছে। আর টাকার রশিদ না দেখালে মিলছে না কোনো সনদ। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে এভাবেই জিম্মি করে ফি আদায় করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এমন অদ্ভুত ও চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের যাঁতাকলে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভা থেকে নাগরিকত্ব কিংবা স্বজনের মৃত্যু সনদ পাওয়া যেকোনো নাগরিকের সাধারণ অধিকার। কিন্তু জয়পুরহাটে রাজস্ব বাড়ানোর খোঁড়া যুক্তিতে এই সেবাগুলোকে সাবমার্সিবল পাম্পের ফিয়ের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সাধারণ মানুষের তোপের মুখে পড়ে সাময়িকভাবে কিছু সনদ ইস্যু করা হলেও হয়রানি একটুও কমেনি।
পৌরসভার বুলুপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রোস্তম বলেছেন, ‘বাসায় নিজস্ব পাম্প থাকলে পানি সংযোগের জন্য ৬ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়েছি। এরপরও ওয়ারিশান সনদের জন্য দুই দিন ধরে ঘুরছি। ওয়ারিশান সার্টিফিকেটের সাথে পাম্পের ফিয়ের কী সম্পর্ক, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
পৌর এলাকার মোত্তালেব হোসেন বললেন, ‘যে রিকশা চালিয়ে সংসার চালায়, তার পক্ষে কি ৬ হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব? টাকা জমা দিলে তবেই নাকি নাগরিকত্ব সনদ মিলবে!’ সেবা নিতে আসা আরেক ভুক্তভোগী এটিকে সরাসরি 'জুলুম' বলে আখ্যায়িত করেন।
জয়পুরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বকুল বলেছেন, ‘জনগণের ওপর এভাবে অযৌক্তিক নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া চরম অন্যায়। এতে ভবিষ্যতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। জনস্বার্থে অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করা উচিত।’
জয়পুরহাট পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান বললেন, ‘পৌরসভার রাজস্ব আয় বাড়াতেই সভার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে আয় বৃদ্ধির জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার পৌরসভার রয়েছে।’
জয়পুরহাট পৌরসভার প্রশাসক নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রচলিত আইনে একটি সেবার শর্ত হিসেবে অন্য সেবা থেকে নাগরিককে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ আমার জানা নেই।’
জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, ‘পৌরসভার কোনো বকেয়া থাকলে আরেকটি সেবা দেওয়া যাবে না-এমন কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে নাগরিকদের কোন অভিযোগ এলে অবশ্যই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





