শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি
শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে এই নির্দেশনার চিঠি।
তাতে বলা হয়েছে, খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক শাখা-৩ এর সচিব দীপক কুমার রায়ের সই করা চিঠিতে কেডিএ চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো- সেটিও মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ আছে, ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বরের এই প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক অনিয়ম, সমীক্ষা ছাড়াই ডিপিপি দেওয়া এবং জিওবি তহবিল থেকে ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা কেডিএর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ তদন্তে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযুক্তদের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতি প্রমাণিত হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন, কেডিএ- এর তৎকালীন সহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. আরমান হোসেন, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) ও বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এটিএম ওয়াহিদ আজহার, উপ-প্রকল্প পরিচালক ও বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ) মুনতাসির মামুন ও অবসরপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ।
অন্যরা হলেন, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাবরক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ (অবসরপ্রাপ্ত), হিসাবরক্ষক (পূর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইদুল হক এবং অবসরপ্রাপ্ত অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এম এম হোসেন আলী।
কেডিএ চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা আগামীর সময়কে বলেছেন, নির্দেশনা মোতাবেক বিভাগীয় মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির বরাদ্দ ছিল ৯৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রকল্প সংশোধন করে তা ২৫৯ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। সবশেষ চলতি ৯ জুন একনেকে বরাদ্দ ২৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলে ক্ষুব্ধ হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটি ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি দায়ীদের অনুসন্ধানে তিনি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহাবুব ব্রাদার্সের সঙ্গে কেডিএ চুক্তি বাতিল করে। ঠিকাদার না থাকায় সড়কটির কাজ এখন পুরোপুরি বন্ধ।





