একনেকের সভায় ১০ প্রকল্পের অনুমোদন, ব্যয় ৯ হাজার কোটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকা মেডিকেল কলেজে নতুন ভবন নির্মাণসহ ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ থেকে নেওয়া হবে ৯৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। এ সময় পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরেজ সরকার, পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতারসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে : ঢাকা মেডিকেল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুন:নির্মাণ; ১১টি মেডিকেল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধা সংবলিত ২১টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ; ক্যাপাসিটি ডেভলপমেন্ট ফর স্মার্ট মেইনটেনেন্স টেকনোলজি অব ব্রিজ আন্ডার রোডস অ্যান্ড হাইওয়েজ ডিপার্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ প্রকল্প; ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলা রক্ষা প্রকল্প; চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট এবং বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ প্রকল্প; গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ; প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ প্রকল্প; জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প; রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ঢাকাস্থ ডেসেকো এলালাকার বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রকল্প।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘একনেক বৈঠকে দুটি প্রকল্প অনুমোদন না দিয়ে সংশোধনের জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর একটি হলো দুটি ওয়েল ট্যাংকার ক্রয় প্রকল্প। এটি ফেরত দেওয়ার কারণ হলো— প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় এরকম চারটি ট্যাংকার ক্রয় করতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন। ফলে ওই প্রকল্পের সঙ্গে এটিও যুক্ত করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রো ঢাকা প্রকল্পটিও ফেরত দেওয়া হয়েছে। কারণ এরই মধ্যে চলমান প্রায় ১১টি প্রকল্প সমন্বয় করে একটি সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য মুখ্য সচিবকে প্রধান করে এ বিষয়টি পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানালেন, অনুমোদন পেলেও বেশ কিছু প্রকল্পে অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমনন্ত্রী। যেমন গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে সড়কগুলোয় যাতে রাবার বিটুমিন ব্যবহার করা যায় সেজন্য প্রথম বছর ১০০ কিলোমিটার পরীক্ষামূলকভাবে রাবার বিটুমিন ব্যবহার করতে হবে। পরে ধীরে ধীরে সব সড়কে ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে টেকসই করতে বাঁধের দুই ধারে বিন্না ঘাস লাগাতে হবে। এজন্য এই অংশ যুক্ত করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সেনানিবাসের প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পাহাড় কেটে সমতল বানিয়ে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।’








