মনোহরগঞ্জ
পাকা জাম্বুরা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ

ছবি: আগামীর সময়
একটি পাকা জাম্বুরা নিয়ে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাতিমারা ও পুজকরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। সামান্য কথাকাটাকাটি থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। ঘটনার জেরে হামলাকারীরা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের জামাইয়ের দোকান ও নাথেরপেটুয়া এলাকায় অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তুচ্ছ একটি জাম্বুরা পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাতিমারা ও পুজকরা—উভয় গ্রামের শত শত বাসিন্দা জামাইয়ের দোকান এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
নাথেরপেটুয়া স্টেশন এলাকার 'সেবা কম্পিউটার অ্যান্ড ইন্টারনেট'র সত্ত্বাধিকারী আলমগীর হোসেন জানান, জাম্বুরা পাড়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনায় দোকানপাট তড়িঘড়ি করে বন্ধ করে দিতে হয়। হট্টগোলের কারণে পুরো স্টেশন ও বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, সামান্য একটা জাম্বুরা পাড়া নিয়ে প্রথমে দুই যুবকের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই গ্রামের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি হয়ে পড়ে। ছোট একটা বিষয় থেকে এত বড় গোলমাল হয়ে যাবে আমরা ভাবতেও পারিনি।
সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ফলে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহাসড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
মনোহরগঞ্জ থানার ওসি মাকসুদুল ইসলাম জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।





