অর্ধেকের আগেই থেমে আছে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজ
- নতুন ভবনের নির্মাণ ব্যয় ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা
- মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল
- শয্যা না পেয়ে রোগীদের থাকতে হচ্ছে মেঝেতে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বরগুনার বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ। ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চললেও কবে নাগাদ নির্মাণকাজ শুরু হবে, তা নিশ্চিত নয়। এতে ৫১ শয্যার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চলছে পুরনো ভবনে ২৯ শয্যা নিয়ে। শয্যা না পেয়ে রোগীদের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।
২০২২ সালের ২৫ আগস্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণে কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড মিজানুর আলমকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করতে পারেনি। প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার বিপরীতে প্রায় ৩০ শতাংশ বিলও পরিশোধ করা হয়। পরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আর সময় বাড়ানো হয়নি। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি আবার চালু করতে ওয়ান-পেজ প্রজেক্ট (ওপিপি) থেকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপিতে বাকি কাজের জন্য ৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদনের পর বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ভবনের প্রথম তলার ছাদ পর্যন্ত নির্মাণের পর আর কাজ হয়নি। এদিকে পুরনো ভবনে গাদাগাদি করে ২৯টি শয্যা বসানো হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লে শয্যার সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগও চলছে ছোট একটি কক্ষে। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদেরও অবস্থান করতে হয়। আউটডোরে পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় এককক্ষে একাধিক চিকিৎসককে রোগী দেখতে হচ্ছে।
ওষুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও রয়েছে সংকট। হাসপাতালের স্টোররুমের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী একটি কক্ষে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কার্টন ও মালামাল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। রয়েছে শৌচাগারের সংকটও।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জয়নাল আবেদীন বললেন, ‘এখানে চিকিৎসা নেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। জায়গা সংকটের কারণে রোগীদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।’
বেতাগী উন্নয়ন আন্দোলনের সভাপতি মো. আবুল বাসার খান বললেন, অবকাঠামোগত সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু না হলে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়্যিদ মুহাম্মদ আমরুল্লাহ বললেন, ভবনের সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকদেরও ঠিকমতো বসার জায়গা নেই। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
পটুয়াখালীর এইচইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. রফিকুল ইসলাম বললেন, প্রকল্পটি ডিপিপিতে স্থানান্তর করে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরুর চেষ্টা করা হচ্ছে।



