৩৫ গ্রামের চার সেতুর ট্র্যাজেডি
- জীবননগরে ভেঙে পড়া ৪টি ব্রিজ মেরামত হয়নি ৮ মাসেও
- সরকারিভাবে সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি
- ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে করতে হয় যাতায়াত

গত বছর প্রবল বৃষ্টিপাতে ভেঙে পড়ে জীবননগরের চারটি ব্রিজ। মাঝে পেরিয়ে গেছে আট মাস। মেরামত করা হয়নি আজও। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় কোনোরকম সংস্কার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন পথচারীরা। সাইকেল, মোটরসাইকেল ও ভ্যান পার হলেও ভারী যানবাহনগুলো ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার করতে পারছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের ৩০-৩৫টি গ্রামের মানুষ।
গত বছর সেপ্টেম্বরে ভারী বৃষ্টিপাতে সিংনগর বাঁওড়ের বাঁধ ভেঙে পানির প্রবল স্রোতে ভৈরব নদীতে নির্মিত চারটি ব্রিজ ভেঙে পড়ে। এগুলো হলো সিংনগর, উথলী গ্রামের আচামি ব্রিজ, সন্তোষপুর ও মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজ। এর মধ্যে মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। অন্য তিনটি স্থানীয়দের সহযোগিতায় কিছুটা মেরামত করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মানুষ চলাচল করছে। আট মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারিভাবে ব্রিজ সংস্কারের জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ
নেওয়া হয়নি।
সিংনগর গ্রামের আহাদ আলী বললেন, ‘আট মাসের বেশি সময় ধরে এখানকার ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে আছে। সাধারণ পথচারীদের যাতায়াত ও মালামাল আনা-নেওয়া করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। কৃষকদের কৃষিপণ্য ঘরে তুলতে ও বাজারজাত করতে কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ব্রিজটি সংস্কারের দাবিতে হয়েছে মানববন্ধন। জানানো হয়েছে অনেককে। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এখন পর্যন্ত।’
আগামী মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এরপর দ্রুত টেন্ডার দিয়ে ব্রিজগুলো মেরামত করা হবে।
আশরাফুল আলম রাসেল
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
সন্তোষপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার জানালেন, ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি কর্মকর্তা এসে পরিদর্শন করে গেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে নিজ উদ্যোগে কিছু ইট ও খোয়া দিয়ে সংস্কার করে দিয়েছিলেন উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু। তারপর থেকে ঝুঁকি নিয়ে এ ব্রিজের ওপর দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে।
‘গ্রামের মানুষ ব্রিজটি ব্যবহার করে মাঠের ফসল ঘরে আনেন ও বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াত করেন। কিন্তু এটি ভেঙে পড়ে যাওয়ায় আর চলাচল করা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে ব্রিজের ওপারে তাদের কৃষিজমিতে যান’— বলছিলেন মনোহরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, ব্রিজগুলো ভেঙে যাওয়ায় অনেককে ১০-১২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে করতে হয় যাতায়াত। এ বছর বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে ব্রিজের অন্য অংশ ভেঙে গেলে গৃহবন্দি হয়ে পড়বে ৩০-৩৫টি গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে যাচ্ছে, এখনই ব্রিজগুলো মেরামত করতে হবে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেলের ভাষ্য, আগামী মাসিক মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে টেন্ডার দিয়ে ব্রিজগুলো মেরামত করা হবে।






