বাগেরহাটে শিশুর বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩

মুসলিমা (৬)। সংগৃহীত ছবি
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মুসলিমা (৬) নামে এক শিশুর গলা কাটা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, শেখ জাহাঙ্গীর (৫৫) ও তার দুই ছেলে রমজান শেখ (২৩) এবং আব্দুর রহমান শেখ (১৯)।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকায় একটি পানের বরজের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মুসলিমা উপজেলার কচুড়িয়া গ্রামের ইসলাম শেখের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকালে বাড়ির আশপাশে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল মুসলিমা। একপর্যায়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়রা শেখ জাহাঙ্গীরের পানের বরজের পাশে পলিথিনে মোড়ানো একটি বস্তা দেখতে পান। পরে বস্তার ভেতর শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মোল্লাহাট থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পানের বরজের মালিক শেখ জাহাঙ্গীরের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির বিষয়ে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর ও তার দুই ছেলেকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিরাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বললেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্তের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




