জয়পুরহাটে ঈদে চামড়া কেনায় আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের

ট্যানারি মালিকদের কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া, ব্যাংক ঋণ না পাওয়া এবং টানা লোকসানের কারণে এবার কোরবানির ঈদে চামড়া কেনায় অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে জয়পুরহাটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। জেলার অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবার চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
শহরের সিও কলোনি, আমতলী ও পাঁচবিবি এলাকার বিভিন্ন চামড়া গুদাম ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গুদামই ফাঁকা পড়ে আছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও বাস্তবে সেই দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় নির্ধারিত দামের অর্ধেকেও চামড়া বিক্রি করতে হয়।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রতি বছর ঈদে জয়পুরহাট থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার চামড়া দেশের বিভিন্ন ট্যানারিতে সরবরাহ করা হয়। তবে চলমান সংকট অব্যাহত থাকলে এবার এ খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিও কলোনির ব্যবসায়ী গোলজার হোসেন জানান, ধার-দেনা করে চামড়া কিনতে হয়। কিন্তু বিক্রির সময় সরকারি রেট তো দূরের কথা, অর্ধেক দামও পাওয়া যায় না। তাই এবার আর ঝুঁকি নিতে চান না।
আমতলীর ব্যবসায়ী বাবু হোসেন উল্লেখ করেন, রোজার ঈদের পর কেনা চামড়াও মূল দামে বিক্রি করতে পারেননি। আগের লোকসান কাটিয়ে উঠতে না পারায় এবার চামড়া কেনার আগ্রহ নেই।
নতুনহাট এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মালেকের ভাষ্য, ট্যানারি মালিকরা সময়মতো টাকা পরিশোধ করেন না। এক সপ্তাহের আশ্বাস দিলেও অনেক সময় ছয় মাসেও টাকা মেলে না। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা বড় সংকটে পড়েন।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি শামিম আহম্মেদ মন্তব্য করেন, গত বছরের লোকসান, লবণ ও শ্রমিক খরচ বৃদ্ধি এবং ব্যাংক সহযোগিতার অভাবে এবার ব্যবসায়ীদের চামড়া কেনায় আগ্রহ কমে গেছে।







