রাস্তা বন্ধ, ঘরে যেতে হয় পুকুর সাঁতরে

বাধ্য হয়ে পুকুর সাঁতরে যাতায়াত করছে এক শিক্ষক পরিবার
তিন মাস ধরে বন্ধ চলাচলের একমাত্র পথ। বাধ্য হয়ে পুকুর সাঁতরে যাতায়াত করছে এক শিক্ষক পরিবার। জমির বিরোধ কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের দেওয়া বেড়ার কারণে কার্যত ঘরবন্দি পরিবারটি। ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর সাহেবগঞ্জ এলাকার।
ভুক্তভোগী তাছলিমা সুলতানা সাহেবগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তার স্বামী মো. রাসেল হোসেন ঢাকায় কর্মরত।
তাছলিমা বলছিলেন, ‘সারা দিন বিদ্যালয়ে শিশুদের পড়িয়ে ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরি; কিন্তু ঘরে ঢোকার কোনো স্বাভাবিক পথ নেই। দীর্ঘদিন যে রাস্তা ব্যবহার করেছি সেখানে কাঁটা ও বাঁশের বেড়া। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে প্রতিদিন বাড়িতে ঢুকতে হচ্ছে। এমন অন্যায় ও সামাজিক নির্যাতনের বাস্তবচিত্র না দেখলে কেউ এটি বুঝতে পারবে না।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘শুধু আমাকেই নয়, আমার ছোট ছোট সন্তানদেরও একইভাবে পুকুরে নেমে বাড়িতে যেতে হয়।’
পরিবারটির অভিযোগ, গত ১৬ জুন বেড়া পার হয়ে ঘরে ঢুকছিলেন তাছলিমা সুলতানা। সে সময় প্রতিবেশী লাসমিন আক্তার দা নিয়ে তাকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। প্রকাশ্যে কোপানোর হুমকি দেন সোহেল হোসেন। একই সময় মাসুদ হোসেন, মমিন হোসেন, আলমগীর হোসেন রাজা, লাসমিন আক্তারসহ কয়েকজন মিলে ঘরের তিনটি সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনায় তারা একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মামলাও করেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কার্যকর ব্যবস্থা।
অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন রাজা ও মাসুদ হোসেন জানাচ্ছিলেন, সামাজিকভাবে বসে বিষয়টির সমাধান করা গেলে তারা বেড়া সরিয়ে নিতে রাজি আছেন। আদালতের রায় অনুযায়ী তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। বাড়ির প্রধান সড়কে বেড়া দেওয়ায় পারিবারিক সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা বলছিলেন তারা।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়ার ভাষ্য, ‘কোনো বাড়িতে ঢোকার পথ বন্ধ করা সমীচীন নয়। কী কারণে এমন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আগামী বুধবার শুনানির জন্য উভয়পক্ষকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




