স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষা, প্রতি পদের বিপরীতে ৫৩ প্রার্থী

ফাইল ছবি
হবিগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পদের নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন জমা পড়ে ১৭ হাজারের বেশি। নিয়োগ দেয়া হবে ১৩০ জনকে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় পরীক্ষা। এতে অংশ নেন ৬ হাজার ৯৩৭ জন। প্রতি পদের বিপরীতে পরীক্ষা দিয়েছেন অন্তত ৫৩ জন।
জেলার ৭৮টি ইউনিয়নে ১৩০ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ দিতে ২০২৩ ও ২০২৫ সালে বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। দুই দফায় আবেদন করেন ১৭ হাজার ৩৬১ জন। শুক্রবার জেলার ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্র স্থাপন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
উচ্চ মাধ্যমিক পাসের যোগ্যতায় এই পদে আবেদনের সুযোগ থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বেশিরভাগই ছিলেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ। এতে সরকারি চাকরিতে এখন প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র, তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
একই সঙ্গে স্টোর কিপার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, গাড়িচালক, ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট ও অফিস সহায়ক পদেও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারী পদ ও এই ৫টি পদসহ মোট ছয়টি পদে জনবল নেওয়া হবে ১৪৪ জন। এসব পদের বিপরীতে আবেদনকারী ছিলেন ১৮ হাজার ৬৭৭ জন। পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ৮ হাজার ৫৫৩ জন।
লাখাই উপজেলার করাব ইউনিয়নের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে দুইজন স্বাস্থ্য সহকারী। এ পদে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন শতাধিক প্রার্থী। তাদের বেশিরভাগই স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। একই পরিস্থতি দেখা গেছে বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও।
করাব ইউনিয়ন থেকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া সাইফুল ইসলাম ও আল মাসুম জানান, পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন ছিল। ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় তারা ৫০ নম্বর পাবেন কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ৬০ নম্বরের বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
পরীক্ষা চলাকালে হবিগঞ্জ শহরের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে চাকরী প্রার্থী ও তাদের স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানান, সরকারি চাকরি সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। সামান্য জনবল নিয়োগের এই পরীক্ষায় এত প্রার্থী। এতে পরীক্ষার আগেই হতাশ হয়ে পড়েন অনেক শিক্ষার্থী।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের ৭৮টি ইউনিয়নে ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ১৬টি। এসব কেন্দ্র পরিচালনায় বর্তমানে স্বাস্থ্যকর্মী মাত্র ১৬১ জন। ফলে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাড়ে রয়েছে গড়ে ১২টি কেন্দ্রের দায়িত্ব। এই সংকটের ফলে জেলার তিন লক্ষাধিক প্রান্তিক শিশুর টিকাদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা সেই সংকট কিছুটা হলেও নিরসনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবার।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেছেন, ‘লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের পর অন্যান্য ধাপ শেষে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হবে।’








